মোঃ আব্দুর রহমান, বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
বরুড়া থানার ওসি আজহারুল ইসলাম। থানার চেয়ারে বসে প্রকাশ্যে অবৈধ মাটি লুটে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে এ ডাক সাইটের পুলিশ কর্মকর্তা। যাকে তিনি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন তিনি এলাকায় একজন বড় মাপের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। সেই সাথে ২৪ এর জুলাই আন্দোলন প্রতিরোধে প্রকাশ্যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মিশন বাস্তবায়নে ছিলেন সামনের সারিতে। সাবেক সংসদ সদস্য এসকে শামীমের অন্যতম সহযোগি হিসেবে এই আক্তার হোসেনের পরিচিতি সর্বজন বিদিত। কিন্তু এই সস্ত্রাসী ও প্রকাশে আওয়ামীলীগের সম্মুখ সারির পরিচিত মুখ হওয়ার পরও থানার ওসির অতি প্রিয় ভাজন তিনি। অবৈধ কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগের যৌথবাহিনী তাকে গ্রেফ করেছিল গণ মাধ্যমের কাছে সেই আটককে নাটক হিসেবে বলতেও দ্বিধা করেননি ওসি আজহারুল । (এমন একটি ওডিও/ ভিডিও রেকর্ড গণমাধ্যমের হাতে রয়েছে)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কুমিল্লা বড়রা উপজেলার গহিন খালী গ্রামের প্রবাসী বায়েজিদ হাসান (ইয়াসিন)-এর স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তি দখলে নিচ্ছে এই আক্তার হোসেন। এলাকাবাসির দেয়া তথ্যমতে, আক্তার হোসেন এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ওয়ারেন্টের তথ্য রয়েছে ।প্রবাসী ইয়াসিন এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শামীম ব্রিকস, মক্কা টিম্বার ও শাকিল এন্টারপ্রাইজসহ সকল প্রতিষ্ঠানে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে আক্তারের নামে।
ব্যবসায়ী ইয়াসিন গণমাধ্যমকে জানান, তিনি কুমিল্লা জেলার সর্বোচ্চ করদাতাদের একজন ছিলেন। আক্তার এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এবং ফ্যাসিস্ট প্রশাসনের প্রকাশ্য সহযোগিতার কারণে জীবন বাচাতে তিনি দেশ তেগে বাধ্য হন। আর এই সুযোগে তার সকল প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে বিক্রি করে দেয় সন্ত্রাসী আক্তার হোসেন।এখন আবার শামীম ব্রিকস এর ইটভাটা থেকে নিয়মিত লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে আক্তার। আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না থকালেও বর্তমান ওসিকে বিশেষ মাসোহারাহ বহুবিধ সুবিধা দিয়ে ফ্যাসিস্টের অন্যতম চেনামুখ আক্তার হোসেন পূর্বের চেয়ে বেশী শক্তি শালী হয়ে উঠেছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।
এলাকবাসির ভাষায়, আগে সে আক্তার ছিলো একচন ছিচকে মাস্তান। কিন্তু এখন ওসির সহযোগিতায় সে এলাকার ত্রাস হয়ে উঠেছে। নিজ পরিবারের সদস্যসহ এলাকবাসির সম্পদ দখল, লুটপাট, চাদাবাজি মাদকের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে সে। প্রবাসী ইয়াসিন পরিবর্তিত প্রশাসনের কাছে একাধিকবার শরণাপন্ন হওয়ার পরেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। বড়ুয়া থানার ওসি আজহারুল ইসলাম এর কাছে সন্ত্রাসী আক্তার হোসেন এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সন্ত্রাসির পক্ষে সাফাই গান। একাধিক মামলার আসামি আক্তার অস্ত্রসহ যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এ ব্যাপারে ওসি যৌথ বাহিনীর গ্রেফতারকে সাজানো নাটক মন্তব্য করেন। এ বিষয়টিতে বরুড়ায় পুলিশের ভাব মর্যাদা দারুণভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসি। গত আওয়ামীলীগের আমলে বরুড়ার এমপি এসকে শামীম এর হাত ধরে অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে আর কেউ সরাসরি মুখ খুলতে সাহস দেখায়নি।
শামীম ব্রিকস এর মাটি উত্তোলন এর ব্যাপারে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন “আমরা কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছি” রাতের আঁধারে মাটি বিক্রি করার কারণে এই অপরাধ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এসিল্যান্ড আহসান হাফিজ কে সাথে নিয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাটি কাটার তিনটি ভেকু দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। মাটিকাটা বন্ধ করতে এসব ইকুপমেন্ট গুলো জব্দ করা হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে এসিল্যান্ড বলেন, যেহেতু ভারী যন্ত্রাংশ তাই স্থানান্তর করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এই অপরাধ বন্ধ করার জন্য।
