টেকনাফ সীমান্তের ওপারে তিনদিন ধরে চলছে বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, আতঙ্কে এপারের মানুষ

ফাইল ছবি

এস এম সোহেল, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি : কক্সবাজারের টেকনাফের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার থেকে থেমে থেমে শোনা যাচ্ছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের কিকট শব্দবিস্ফোরণ ও গোলাগুলি।

আজ শনিবার সকালেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।  এ নিয়ে টানা তিনদিন ধরে সীমান্তের ওপারে  গোলাগুলি ও বিস্ফোরণে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তের এপারে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকায় মাছ ধরার সময় সীমান্তের ওপার থেকে আসা গোলির আঘাতে মো. আলমগীর নামে এক বাংলাদেশী জেলে আহত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়।

এদিকে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, দেশটির জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাখাইন রাজ্যের একাধিক শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এসব এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে, ওইসব এলাকায় জান্তা বাহিনীর উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এর জেরে রাখাইন সীমান্তজুড়ে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত চলছে। অপরদিকে এই সংঘাতের প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও পড়ছে। গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জেলে পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছে না। সীমান্তবর্তী মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

স্থানীয় এক  বাসিন্দা মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতের পর শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে হোয়াইক্যং সীমান্তের বাড়ি-ঘর কেঁপে উঠছিল। গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত আবারো ব্যাপক বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে। এখন মাঝে মধ্যে দু’একটি ফায়ারের শব্দ ভেসে আসছে।

হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিনদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা শব্দগুলো আরও তীব্র হওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার ভয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যাওয়ার কথা ভাবছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত। হোয়াইক্যং সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকায় এসব সংঘর্ষ চলছে। এর আগে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এপারের বাসিন্দাদের শরীরে লেগেছে। এখনো স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা, যেকোনো সময় এপারে গুলি এসে পড়তে পারে। গোলাগুলির শব্দে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে, ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন