সুলতান আল এনাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের ধোপাবিলা গ্রামে পুকুরে বিষপ্রয়োগ করে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও বিপুল বিনিয়োগ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সফল মৎস্য উদ্যোক্তা মো. রমজান আলী। দিনের আলোতেই পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরে ধোপাবিলা এলাকায় বড় পরিসরে মাছ চাষ করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তিনি খামার পরিদর্শন শেষে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু দুপুর দুইটার দিকে আবার পুকুরে গিয়ে দেখেন, শত শত মাছ পানির ওপর ভেসে উঠেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। এসময় পুকুরে বিষের রাসায়নিক দ্রব্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে সব মাছ মারা যায়। এবিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রমজান আলী জানান,আমি তিলেতিলে মৎস্য খামার গড়ে তুলেছিলাম। কিসের কারণে আমার সঙ্গে এমন শত্রুতা করলো বুঝতে পারলাম না আমি কোনদিন কারো কোন ক্ষতি করিনি। কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানা যায় প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন।
এর মধ্যে নিজস্ব ৩০ বিঘা এবং বাকি ২২০ বিঘা জমি অন্যদের কাছ থেকে বিঘা প্রতি বছরে ২২ হাজার টাকায় লিজ নেওয়া।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, তার বিশাল খামার থেকে প্রায় ৩০০ মণ মাছ আলাদা করে ১০ বিঘার একটি নির্দিষ্ট পুকুরে ‘স্টক’ বা মজুদ করে রাখা হয়েছিল। দুর্বৃত্তরা ঠিক সেই পুকুরটিকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
রমজান আলী আরো বলেন, “আমার এই খামার থেকে বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক এখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবে আমাকে পথে বসিয়ে দেওয়া হলো।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে বইছে নিন্দা সমালোচনার ঝড় তারা বলেন একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তার ওপর এমন নাশকতা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো এলাকার উদীয়মান মৎস্য শিল্পের জন্য একটা অশনিসংকেত।
খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান,পুকুরে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
