নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ছাত্রদল নেতা এইচ এম মোমেন ভূইয়া সম্প্রতি নেত্রকোণা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, মোমেন ভূইয়া নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। নিয়োগের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর একটি মহল তাকে জড়িয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ছবি প্রচার শুরু করে।
দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে মোমেন ভূইয়ার পুরোনো কিছু ছবি ব্যবহার করে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মোমেন ভূইয়া স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাদিস উদ্দিন ভূইয়ার সন্তান। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি ২০১৬ সালে কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৯ সালে আশুজিয়া বানেটেক কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০২৫ সালে গ্রিন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোমেন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি একজন কবি ও শিশুসাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিত।
এছাড়া ২০১৯ সালে ‘কল্যাণী যুব ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে তিনি করোনা মহামারির সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। সেই সময়ের মানবিক কর্মকাণ্ডের কিছু ছবি বর্তমানে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মোমেন ভূইয়ার সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তারা দ্রুত অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মোজাফরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ বলেন, মোমেন ভূইয়া ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিছু ছবি ব্যবহার করে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাদিস মিয়া বলেন, তাদের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যারা এ অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা একটি কুচক্রী মহল। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
এলাকাবাসী দ্রুত অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
