নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার-৪


এ. বি. এম. হাবিবুর রহমান : নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে। সেদিন সকাল ৭টায় আসামী জাহান আলী জনৈক মনতাসুরকে ফোন করে জানায়, তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে একটি লাশ পাওয়া গেছে। পরদিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করে। এরপর ৩০ জানুয়ারি নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা (নং-৪৭, তাং-৩০২/২০১/৩৪) রুজু হয়।

ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তদন্তের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেন। পুলিশ সুপার ক্রাইম এবং অফিসার ইনচার্জ সদর থানাকে তদন্তে আরো গভীরতা আনার জন্য নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, পাশাপাশি গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে নামলে চারজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এদের মধ্যে একজন আসামী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

পুলিশ ৭ মার্চ জাহান আলীকে গ্রেফতার করে, যার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাত এবং ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা জানায়, তারা মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকায় চুক্তি করে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানী গ্রামে নিয়ে আসে। সেখানে, বিল ভবানীপুর গ্রামের মালা নামক পরিত্যক্ত বাড়িতে আসামিরা মিতুর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে যখন মিতু চিৎকার করতে থাকে, তখন আসামী রেন্টু তার মুখ ও গলা চেপে ধরেন, অন্য আসামিরা তার হাত-পা ধরে রাখে। কিছু সময় পর মিতু মারা গেলে, আসামিরা লাশটি বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে গোপন করে রাখে।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দীতে সব বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার জানান, নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো অপরাধের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের জন্য সর্বদা তৎপর রয়েছে বলে জানান। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন