ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেড়শ' বছরের পুরনো ইউনিয়নকে ভেঙে আরেক উপজেলায় সংযুক্ত না করতে সোচ্চার এলাকাবাসী



এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্যক্তি বিশেষের রাজনৈতিক অভিলাষ বাস্তবায়ণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেড়শ' বছরের পুরনো ইউনিয়নকে 'দ্বিখণ্ডিত' করে আরেক উপজেলায় সংযুক্তের প্রতিবাদে সোচ্চার স্থানীয় এলাবাসী। এই নিয়ে ক্রমেই ফুঁসে ওঠছেন স্থানীয় জনতা। ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি পালনেও প্রস্তুত। সদর উপজেলার বাসুদেব উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবী জানানো হয়। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে বাসুদেব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মলেনে লিখিত বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম নয়ন বলেন, ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙ্গে নতুন আরেকটি ইউনিয়ন গঠন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। যা স্থানীয় জনগণের অজান্তে এবং মতামত উপেক্ষা করেই করা হচ্ছে। এমনকি এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমরা আগে থেকে কিছুই অবহিত নই। একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনকে নানাভাবে চাপে রেখে বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙ্গে দিতে চাচ্ছে। এটিকে ঘিরে তারা নানা অপপ্রচারেও লিপ্ত রয়েছে। প্রশাসনও পক্ষপাতিত্ব করছেন। মূলত ব্যক্তির রাজনেতিক অভিলাষ বাস্তবায়ণে এ ধরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।সংবাদ সম্মলনে অভিযোগ করা হয়, জেলা প্রশাসন বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল গ্রামে গিয়ে তদন্তকালে ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর ও ভাড়াটিয়া লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জেলা প্রশাসনও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তিনি বরিশল গ্রামের তদন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলেও বাসুদেবে এসে করা তদন্ত নিয়ে কোন তথ্য প্রকাশ করেননি;যা জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছে। নতুন ইউনিয়ন গঠন করে সেটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, বাসুদেব ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, সাবেক মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা বলেন আমরা জানতে পেরেছি, জেলা বিএনপি’র সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া প্রভাব বিস্তার করে প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে এলাকাবাসীর কোনো যোগসাজশ নেই। এলাকার ৮০ শতাংশ মানুষ চায় না ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাক। বর্তমানে বাসুদেব ইউনিয়নের যেকোনো স্থান থেকে অল্প সময়েই জেলা সদরে যাতায়াত সম্ভব। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও জেলার সদর উপজেলা ছেড়ে আরেক উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মতো এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।অন্যথায় কঠোর কর্মসূচী গ্রহণ এমনকি জীবন দিয়ে হলেও দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, দেড়শ' বছরের পুরনো বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদ। ১৭ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত শতাব্দীপ্রাচীন এই ইউনিয়নটি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অন্তর্ভূক্ত।কিন্তু এই বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামকে নিয়ে আলাদা করে 'বরিশল ইউনিয়ন পরিষদ' গঠন করে এটিকে আখাউড়া উপজেলার সাথে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেয় একটি মহল। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন