নাজমুল হুদা, নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারী জেলা শহরের গাছবাড়ী এলাকায় স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ বীথি আক্তার (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সাজু খান (৩৫) এখনও পলাতক রয়েছে।
নিহত বীথি আক্তার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী এলাকার বড়বাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ মে) বাবার বাড়িতে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলী জামবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সাজু খানের সঙ্গে বীথির বিয়ে হয়। তাদের আব্দুর রহমান নামে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাজু খান পেশায় মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর মেকানিক। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি নীলফামারী শহরের গাছবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
গত ৯ মে রাত ৮টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে বীথির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী সাজু খান—এমন অভিযোগ পরিবারের। পরে ঘরের গেটে তালা লাগিয়ে সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায় সে। প্রতিবেশীরা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বীথিকে উদ্ধার করেন।
প্রথমে তাকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা লোকমান হোসেন বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বীথির মা মাসুদা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বারবার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। শেষ পর্যন্ত তার মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
