বাঁকে বাঁকে মরা গাছ, ঝুঁকির মুখে ফুলবাড়ী–মাদিলাহাট সড়ক


আমিনুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-মাদিলাহাট সড়কের বিভিন্ন বাঁকে মরা গাছ ও গাছের গুড়ি পড়ে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন ও পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে এসব গাছ পড়ে থাকলেও অপসারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুলবাড়ী-মাদিলাহাট সড়কের দুই পাশে অর্ধশতাধিক মরা ও আধামরা গাছ বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি বেশ কিছু গাছ কেটে গুড়ি করে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এগুলো পড়ে থাকলেও সরানোর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশে লাগানো বিদেশি প্রজাতির গাছগুলো ধীরে ধীরে মারা যাওয়ার পর তাদের ডালপালা সড়কের ওপর ঝুলে পড়েছে। এতে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মাদিলাহাট এলাকার অটোরিকশা ও রিকশাভ্যান চালক হাসিবুল হোসেন, ছবিরুল ইসলাম, দ্বীজেন চন্দ্র, লোকমান হোসেন ও জিয়ারুল হক বলেন, “সড়কের ওপর ফাঁদের মতো দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছ ও গুড়ির কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। একাধিকবার জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।”

এক বছর আগে ঝড়ো হাওয়ায় পড়ে যাওয়া গাছ ও গাছের গুড়ির মধ্যে ফুলবাড়ী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো চত্বরে দুটি, সুজাপুর এলাকায় ১০টি, চাঁদপাড়া স্কুল এলাকায় দুটি এবং মেলাবাড়ীতে দুটি এখনও পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় এসব কাঠ রোদ-বৃষ্টিতে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সময়মতো বিক্রি করা হলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারত।

চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল হক এবং মেলাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) লুৎফর রহমান বলেন, ২০২১ সালে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য একটি কাঁঠাল ও একটি নিমগাছ কাটা হয়। এ বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও পরবর্তীতে কার্যক্রম এগোয়নি। ফলে গাছগুলো এখনও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল সিরাজ বলেন, “এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কাজ করে। দ্রুত গাছগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন।”

৬ নম্বর দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং ৫ নম্বর খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শামিম হোসেন বলেন, শুধু এই সড়ক নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়কের পাশেও মরা গাছ ঝুঁকি তৈরি করছে। কালবৈশাখী মৌসুম শুরু হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট মালিকানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত গাছ ও গাছের গুড়ি অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মরা গাছ ও গুড়ির অবস্থান শনাক্ত করে দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত অপসারণ করা হবে।

দিনাজপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ফাহিম মাসউদ বলেন, বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় এ ধরনের মরা গাছের বিষয়ে অবহিত করা হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন