হুমায়ুন কবির সবুজ : রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক আমলাতন্ত্র ছাড়া কার্যকর রাষ্ট্র ও সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন সাবেক আমলা ও নীতিবিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (CePAA) আয়োজিত ‘State Building and Bureaucracy: Southeast Asian Experiences and Bangladesh Realities’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ মত উঠে আসে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হলে আমলাতন্ত্রকে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।
আলোচনায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা, দুর্নীতি ও জবাবদিহির ঘাটতির বিষয় তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, শক্তিশালী ও পেশাদার আমলাতন্ত্র ছাড়া আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়; তবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত আমলাতন্ত্র শেষ পর্যন্ত সুশাসনের পরিবর্তে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অনিয়মকে উৎসাহিত করতে পারে।
বক্তারা সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক বিবেচনা ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা করেন। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের মতো প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বন্ধের সুপারিশ করা হয়। তাঁদের মতে, যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
আলোচনায় আরও বলা হয়, কেবল সংস্কার করলেই হবে না; প্রশাসনিক কাঠামোর মৌলিক পুনর্গঠন প্রয়োজন। সাবেক সচিব আলেয়া আক্তার প্রশাসনকে স্থিতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের ইমেরিটাস অধ্যাপক শাহজাহান খান আমলাতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন।
গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক আমলা ও CePAA-এর প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলম। আলোচনায় সাবেক আমলা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম কবিরুল ইসলাম, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, একটি নিরপেক্ষ ও পেশাদার প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়বে, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এজন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাকে রাষ্ট্র সংস্কারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
