সাতক্ষীরায় সরিষার বাম্পার ফলন, মধু আহরণে ব্যস্ত মৌয়ালরা


আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরায় সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । ফুল থেকে মধু আহরন করে একদিকে যেমন বেকারত্ব দুর হচ্ছে অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়ণের ফলে ফসলের ফলন বৃদ্ধি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ ভাগ। সাতক্ষীরায়এবছর সরিষার আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে। আর ১০ হাজারের বেশি মৌ বক্স থেকে মধু উৎপাদন হবে ৭০ হাজার কেজি। আবার সরিষার তৈল ভৌজ্য তৈলের চাহিদা মিঠাচ্ছে। সরিষার খৈল পশু ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে লাভবান হচ্ছে কৃষক। 

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জুেলায় মৌচাষি রয়েছে এক হাজারের উপরে। এসব চাষিরা সাতক্ষীরার মাঠে সরিষা ফুলের মধু আহরণ করতে দশ হাজারের উপরে মৌ বক্স বসিয়েছে । জেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার  আবাদ খুব ভালো হয়েছে। মাঠগুলো হলুদ আকার ধারণ করেছে । আর মৌচাষীদের বসানো মৌ বক্সের মৌমাছি ফুলের উপর নেচে নেচে মধু সংগ্রহ করছে।  এবছর ৭০ হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করবে মৌচষিরা।

মৌয়াল আনারুল, মমিনুর, আকবর জানান, ১৯৯৫ সালে মাত্র ৫ টি মৌমাছির বাক্স নিয়ে মধু আহরনের যাত্রা শুরু করে কলারোয়া উপজেলার খলসি গ্রামের আবজাল। এরপর তার দেখাদেখি শুরু হয় সরিষা খেতে মৌ বক্স বসিয়ে মধু আহরণ। এখন জেলায় এক হাজারেরও বেশি মৌচাষী রয়েছে। 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাশদহা ও  কুশখালী এলাকার কৃষক মাহবুব, কামরুল,  আইয়ুব জানান, সরিষা  ফুলের মধু আহারণ শুরু হয়ে গেছে। এসব চাষীরা বলছে সরিষা ফুল থেকে চার থেকে পাঁচ বার মধু সংগ্রহ করা যায়। যার ফলে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক বেকার যুবকের। সরিষা থেকে তেল উৎপাদন হয়। এই তৈল ভৈজ্য তৈল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর সরিষার খৈল মাছ ও পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অল্প দিনে সরিষার ফলন হয় এবং এর খরজ অনেক কম। 

মধু ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে প্রচুর মধুর চাহিদা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি মধু উৎপাদন হয় সরিষা ফুল থেকে। এই মধু দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়। ফলে অর্জিত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। 

সাতক্ষীরা শহরের কদমতলা এলাকার নুর ইসলাম, খোকন, শহিদুল জানান, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা ভেজাল বিক্রি করে। আবার কেমিক্যাল দিয়েও নকল মধু তৈরি হয়। মৌয়ালরা মৌমাছির চিনি দিয়ে মধু তৈরি করে। এসব কারণে খাঁটি মধু পাওয়া কষ্ট। বাজারে ভেজাল মধুতে সয়লাব।

তদারকির অভাবে এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। 

সাতক্ষীরা জেলা মধু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জানান, যাতে ভেজাল মধু বাজারজাত করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। বর্তমান ফুলের পাশে মৌবক্স স্থাপন করে সেখান থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে মধু। সাতক্ষীরা শ্যামনগর, দেবহাটা, কলারোয়া,সদর, তালা উপজেলায় এখন এক হাজারের বেশি মৌচাাষি রয়েছে । বর্তমানে সরিস ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য ভীষন ব্যস্ত তারা । দিন দিন বৃদ্ধি পাচেছ মৌচাষির সংখ্যা 

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর সরিষার ফলন বেশ ভালো হয়েছিল। এ বছরও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বেশি সরিষা উৎপাদন হবে।  আর সরিষা ফুলের মধু মধু সংগ্রহ করতে  মৌয়ালরা ব্যস্ত রয়েছে। এ বছর সত্তর মেট্রিক টনের বেশি মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। 

সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছির মাধ্যমে ফুলের পরাগায়ন হয়। আর এই পরাগায়নের ফলে ফলন ভাল হয়। সরিষার তেল দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা মিঠাচ্ছে। আর খৈল মাছ ও পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এতে লাভবান আছে কৃষক। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন