ঠাকুরগাঁওয়ে পড়াশোনাজনিত মানসিক চাপে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা!


ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে পড়াশোনার মানসিক চাপে হুমায়রা আক্তার মিম (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।  গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত স্কুলছাত্রী মিম ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। সে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার জিয়বাড়ী গ্রামের মো. হুমায়ুন কবিরের মেয়ে। পড়াশোনার সুবাদে সে ভাইয়ের সঙ্গে চাচার বাড়িতে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিম পড়াশোনায় মেধাবী ছিল এবং সদ্য অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। কিন্তু ভালো ফলের চাপ, কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া এবং অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের বিষয়টি তাকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কোচিংয়ে ভর্তি ও অনলাইনে ক্লাস করার জন্য একটি স্মার্টফোন কেনা নিয়ে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা কাটাকাটি হয় তার। ফোনালাপ শেষে কান্নাকাটি করতে করতে নিজের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় মিম। পাশের কক্ষে পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকা ভাই ফেরদৌস ধারণা করেছিল, কান্নার পর হয়তো বোন ঘুমিয়ে পড়েছে।

কিন্তু রাতের খাবারের সময় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁকা দিয়ে উঁকি দেয় ফেরদৌস। তখনই তার চোখে পড়ে মিম গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। আতঙ্কে সে চাচা-চাচিকে ডেকে আনলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানেই মিমের ঝুলন্ত মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। যেখানে লেখা ছিল রেজাল্ট দেওয়ার জন্যই কি আমার জন্ম? শুধু ভালো রেজাল্টের বিনিময়েই তো আমার বড় হওয়া। তাই আমি আমার শেষ রেজাল্ট দিচ্ছি। 

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন