মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : একদিকে মাদক দ্রব্যের ছড়াছড়ি, আরেক দিকে জুয়া এই দুয়ে মিলে বোলপুর এখন অপরাধের স্বর্গরাজ্য যেন। মাদকে ভাসছে যশোর সদর উপজেলার বোলপুর বা বৈলতলা গ্রাম। সাধারণ গ্রামবাসী কার্যত মাদক কারবারি দের কাছে জীম্মি। সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে পারছেনা। এসব মাদক ব্যাবসায়ী ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের আগ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের রাজনীতি করলেও এখন তারা নিজেদের বিএনপি দাবি করছে। এই গ্রামে অবৈধ মাদক দ্রব্য ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আর মাদক কারবারিরা চুটিয়ে নেশা দ্রব্য বিক্রি করছে।
বোলপুরের জলিল বড় ফেন্সিডিল কারবারি। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সে চৌগাছা উপজেলা সীমান্ত ব্যাবহার করে সে নিয়মিত ফেন্সিডিল আনে। তার পিতার নাম মোসলেম মিস্ত্রী। অভিযোগ রয়েছে ২০ বছরের বেশি ব্যবসা করে। উত্তর পাড়ায় কবর স্থান ও আসপাশ এলাকায় সে মাদক দ্রব্য বেচা কেনা করে। শহিদুলের দোকানের পিছনে জলিলের বাড়ি।
বোলপুরের ওবাইদুল গাঁজা সম্রাট। তার পিতা রেজেক আলী।
বোলপুরের ঝরের ছেলে ইকরাম ইয়াবা সম্রাট। তার আপন ভাই জাকির ও মাদক করবারে জড়িত।
ইকরাম যদি ইয়াবা সম্রাট হয় উজ্জ্বল মাদক দ্রব্য বাবার নাজির। এই উজ্জ্বলের পিতা হাই ফকির।
টিপুর চায়ের দোকানে জুয়া ব্যবসা। সব সময় সেখানে জুয়া খেলা হচ্ছে। টিপুর পিতা দবির মোল্লা।
গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন বোলপুরের সালাম মেম্বার নেতৃত্বে অপরাধীরা এসব অপরাধ করে। কারো নিষেধ এরা পারত পক্ষে মানেনা। আর প্রশাসনের ভয় এরা আমলে আনেনা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান সেখানে হয় কদাচিৎ।
সূত্র জানায় দীর্য দিন যুব সমাজ ধ্বংস ও অবৈধ মাদক করবারে জড়িত থাকলেও এসব মাদক কারবারি তালিকা ভুক্ত নয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চুটিয়ে রমরমা মাদক কারবার চালাচ্ছে ঐ অপরাধী চক্র। দেখার যেন কেউ নেই।
এদের বাইরে রয়েছে কিছু কমিশন এজেন্ট। যারা খুচরা মাদক দ্রব্য বিক্রি করে থাকে। তবে গ্রামবাসী জানায়, রাঘব বোয়াল বা পালের গোদা মাদক কারবারি দমন হলে চুনো পুঁটি এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। এরা বড় ফ্যাক্ট নয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের উপ পরিচালক পারভীন আখতার এ বিষয়ে বলেন, যশোরে নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলমান আছে। অবৈধ নতুন মাদক কারবারি কেউ এড়িয়ে থাকতে পারে এবং সুনিদৃষ্ট অভিযোগ থাকলে দোষী মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযান পরিচালিত হবে। অবৈধ মাদক কারবারিরা সামাজিক দুর্বত্ত। তাদের কখনোই ছাড় দেওয়া হবে না।
