জাকিয়া সুলতানা, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চল ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ছোট বড় ১০৮ টি হাওর ও বিলে পুরো দমে বোরোধান রোপনের হিরিক চলছে। অন্য দিকে প্রচন্ড ঠান্ডা ও শীতের কারণে শ্রমিক সংকটে পড়েছে কৃষক।
ধর্মপাশা - মধ্যনগর উপজেলার সবকটি হাওর বিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে হাওর থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল গুলিতে মাটি ভরাট হওয়ার কারণে সঠিক সময়ে হাওরের পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কৃষকেরা সঠিক সময়ে বোরোধান রুপন করতে পারেনা।ধান রুপনে প্রায় ১ মাস বিলম্বিত হওয়ার কারণে ঠিক সময়ে ধান কর্তন করা সম্ভব হয়না।
এ ব্যাপারে ধর্মপাশা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম ও মধ্যনগর উপজেলা উপসহকারি প্রকৌশলী মোঃ নুরে আলম জানান, বছরের পর বছর যাবৎ খাল খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পানি সম্পদ মন্ত্রানালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর পরেও অনুমোদন না হওয়ায় খালগুলি খনন করা সম্ভব হয়নি। এতে করে কৃষকের মাথায় হাত।
চলতি বছরে ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল,সোনামড়ল,জয়ধুনা,ধানকুনিয়া,রুইবিল,গুরমার হাওর, কালিহানি, ধারাম ও টগার হাওর সহ ছোট বড় হাওর ও বিল গুলিতে মোট ১৮ হাজার ৬১৪ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে কিন্তু ইতিমধ্যে প্রায় ৫২% জমিতে বোরোধান রোপন সম্পন্ন হয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলার টাংগুয়ার হাওর, ঘোড়াডোবা হাওর, শালদিঘা হাওর, কালিহানির অংশ, গুরমার অংশ, রুই বিলের অংশ, ও বিভিন্ন হাওর ও বিলের মোট ১৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৪৫% বোরোধান রোপন করা সম্পন্ন করা হয়েছে।
হাওরের পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।এই কৃষি কাজে হাওর পাড়ের সব শ্রেণী পেশার মানুষ যুক্ত হয়েছেন।পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ও মাঠে নেমে ধান রোপনে সহায়তা করছে।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার দায়িত্ব পাপ্ত ধর্মপাশা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আসাদ বিন খলিল রাহাত বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় উন্নত মানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে হাওরে বোরোধান রোপন কার্যঞম দ্রুুত গতিতে চলমান আছে। পানি ধীর গতিতে নামায় ও ঠান্ডা বেশি থাকায় ও শ্রমিক সংকটের কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। আশা করি যথাসময়ে রোপণ কাজ সম্পন্ন হবে।

.jpeg)