হাফেজ নজরুল, মুরাদনগর (কুমিল্লা) : ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ মুরাদনগরের আসনটি নানা কারণে বেশ আলোচিত ছিল। অবশেষে বড় ব্যাবধানে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতের প্রার্থী মোঃ ইউসুফ সোহেল কে পরাজিত করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মিথ্যা মামলায় যাবত জীবন দন্ড প্রাপ্ত থেকে
৬ষ্ঠ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
শুক্রবার (১৩/০২/২০২৬) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মুহা: রেজা হাসানের স্বাক্ষরিত বেসরকারী ফলাফল বিবরণীতে জানাযায়:
কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর উপজেলায় ৫ লাখা ৭২৬ জন ভোটারের মধ্যে পোস্টালসহ ১৬০টি ভোট কেন্দ্রে ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৭৫ জন ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্র ভিত্তিক ও প্রবাসী পোস্টাল ভোটসহ ৯১৬৮টি ভোট বাতিল হয়েছে। সবমিলিয়ে ভোট প্রদানের হার প্রায় ৫৭%। ধানের শীষ প্রতীকে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৯১ ভোট এবং নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীকে ইউসুফ হাকিম সোহেল পেয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৫৯৯ ভোট। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক ৫ বারের এমপি কায়কোবাদ ৪৯৬৯২ ভোটের ব্যবধানে ৬ষ্ঠ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এই আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের প্রার্থী মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম (হাত পাখা) ৩৫৯৩ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস দলের প্রার্থী মোঃ খোরশেদ আলম (ডাব) ৭১৭, গণঅধিকার পরিষদ মোঃ মনিরুজ্জামান (ট্রাক) ৬৩৩, আমজনতা পার্টি থেকে চৌধুরী রকিবুল হক শিপন (প্রজাপ্রতি) ২৪৪, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে শরীফ উদ্দিন সরকার (আপেল)১৮০, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন দল থেকে রিয়াজ মোঃ শরিফ রায়হান (সিংহ) ১৫২ ভোট এবং
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি থেকে পীরজাদা মাওঃ এমদাদুল হক (হাতি) ১১১ পেয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া অন্য ৭ প্রার্থীর জামানত হারিয়েছেন।
মুরাদনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম কে আই জাবেদ জানান: কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ তরুণ বয়সে ১৯৮৬ সালে মুরাদনগর আসন থেকে প্রথম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে পুনরায় জয়লাভ করেন এবং ২০০১ এবং ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আছেন। ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ডাবল হ্যাটট্রিক (৬ বার) এমপি হয়েছেন। বিএনপির সরকারের একজন সিনিয়র বিজ্ঞ সংসদ সদস্য হিসেবে এবার মন্ত্রী পরিষদে থাকার গুঞ্জন চলছে এলাকায়।
