ফুয়েল কার্ডে বদলাচ্ছে পরিবহণ খাত, নীলফামারীতে দুই মাসে বিআরটিএ রাজস্ব প্রায় দেড় কোটি টাকা


নাজমুল হুদা, নীলফামারী প্রতিনিধি :  নীলফামারীতে ডিজিটাল ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালুর পর যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ এবং বিআরটিএ সেবাগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে পরিবহণ ও জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসেই জেলায় প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।

নীলফামারী বিআরটিএ কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট ৭৮৪টি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে প্রায় ৮৭ লাখ ৪১ হাজার ৬০০ টাকা। একই সময়ে ৭ হাজার ৪০০টি শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে, যেখান থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া ফিটনেস নবায়ন, ট্যাক্স টোকেন ও স্মার্টকার্ড গ্রহণের হারও আগের তুলনায় বেড়েছে।

সরকার জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে ডিজিটাল ফুয়েল কার্ড বা ফুয়েল পাস সিস্টেম চালু করেছে। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি যানবাহনের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ থাকছে এবং কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে জ্বালানি গ্রহণের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত তেল বিক্রি, অপচয়, অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ সহজ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জেলার বিভিন্ন জ্বালানি স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় তেল সংগ্রহে ভোগান্তি কমেছে। ডিজিটাল কার্ড ও টোকেন ব্যবস্থার কারণে চালকেরা দ্রুত জ্বালানি নিতে পারছেন। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলাও বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট চালু হওয়ায় নগদ লেনদেনের ঝুঁকি কমে আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফুয়েল কার্ড পেতে শুরুতে যানবাহনের বৈধ রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, কর পরিশোধ এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে আবেদনকারীদের বড় একটি অংশ এসব শর্ত পূরণ করতে না পারায় পরে কিছু ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হয়। এরপর থেকেই আবেদনকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

তবে বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শোরুম পেপার বা শিক্ষানবিস লাইসেন্সের ভিত্তিতে যারা প্রাথমিকভাবে ফুয়েল কার্ড নিয়েছেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রেশন ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তাদের কার্ড বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নীলফামারী বিআরটিএ কার্যালয়ের উপপরিচালক (ইঞ্জি.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ফুয়েল কার্ড চালুর পর মানুষ নিয়মের আওতায় আসতে শুরু করেছেন। আগে অনেকে রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস কিংবা লাইসেন্স নবায়নে অনাগ্রহী থাকলেও এখন বাধ্য হয়েই বৈধ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছেন। এতে সরকারের রাজস্ব যেমন বাড়ছে, তেমনি সড়কে কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের চলাচলও কমছে।

পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের মতে, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, সামগ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। ডিজিটাল নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কারণে ভবিষ্যতে এ খাতে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে তারা মনে করছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন