সিংড়া চলনবিলে টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে ফসলের ক্ষতি ; ফসল বাঁচাতে কৃষকের আপ্রাণ লড়াই


মো. এনামুল হক বাদশা, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে হানা দিয়েছে আগাম বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়া। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চলনবিলের সিংড়ার শত শত কৃষকের ‘সোনার ফসল’ এখন হুমকির সম্মুখীন। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ ফসল বাঁচাতে নিরুপায় কৃষকরা এখন প্রকৃতির সাথে এক অসম ও মরণপণ যুদ্ধে নেমেছেন। এ বছর সিংড়া উপজেলায় প্রায় ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। 

সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে। একদিকে নদীর পানি বিলে প্রবেশ করছে, অন্যদিকে সেই পানি ঠেকাতে স্থানীয় জনতা ও কৃষকরা একতাবদ্ধ হয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছেন। পুরুষদের পাশাপাশি ধান কাটতে কাজ করছে মহিলারাও। সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় বসে না থেকে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে বালুর বস্তা সংগ্রহ করে এক রকম ফসল বাঁচানোর যুদ্ধে নেমেছেন স্থানীয়রা। 

হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের শাকিল হোসেন বলেন, আমরা গ্রামবাসী ও কৃষকেরা একত্রিত হয়ে গত কয়েকদিন ধরে এই ভাঙা স্লুইসগেটের মুখে বালুর বস্তা ফেলছি। কিন্তু নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই অস্থায়ী বাঁধ কতক্ষণ টিকবে তা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত।

মাঠের পর মাঠ ধান পেকে থাকলেও তা ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, আমার ১২ বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সারা বছরের খোরাক এই মাঠেই পচে যাওয়ার দশা হয়েছে। একই আশঙ্কার কথা জানান কৃষক হানিফ প্রামানিক, তার ৭ বিঘা জমির ধান বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।


সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। তিনি নিজেই বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, আগাম বন্যার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। আমি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছি এবং স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি।


সংসদ সদস্য আরও বলেন, ইতিমধ্যে আমরা জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে জোরমল্লিকা ব্রিজের নিচে ভেকু পাঠিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছি। আমার নির্বাচনী এলাকার কোথাও বিলে পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া মাত্রই আমি সেখানে ছুটে যাচ্ছি। জনগণের জানমাল রক্ষায় আমি সবসময় কৃষকের পাশে আছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন