ধর্মমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক মানবিক উদ্যোগে দুই হজযাত্রী সউদী পৌঁছেছেন


মো: লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্): পবিত্র হজে যেতে না পারার আশঙ্কায় ছিলেন দুইজন হজযাত্রী। কখন কীভাবে হজে যাবেন তা নিয়েও ছিল সংশয়-অনিশ্চয়তা। এমন অবস্থায় আশকোনা হজক্যাম্পে কান্না করছিলেন তারা। তবে বিষয়টি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন।

ধর্মমন্ত্রীর সার্বিক তৎপরতায় এই দুইজন হজযাত্রীর সৌদিআরব যাত্রা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়। অর্থাৎ তাদের টিকিট কাটা ছিল না। এমনকি হজযাত্রী পরিবহনে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটও শেষ হয়ে যায়। এমন সময় জানা যায় ‘ফ্লাইন্যাস’ এর একটি ফ্লাইট ঢাকায় ছিল।

একপর্যায়ে জরুরিভাবে তাদেরকে সৌদি আরবে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ফ্লাইট ছাড়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে হজ ফ্লাইটের শেষ মুহূর্তে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে ধর্মমন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই দুইজন হজযাত্রীর যাত্রার ব্যবস্থা করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানবিক বিবেচনা ও দায়িত্ববোধ থেকে ধর্মমন্ত্রীর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জানা গেছে, হজ কার্যক্রমের প্রায় শেষ সময়ে বৃহস্পতিবার ওই দুই হজযাত্রীর সৌদিআরব যাওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হয়। অর্থাৎ হজের সব ফ্লাইট ততক্ষণে চলে গেছে। এমন সময় ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাবের (হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) দায়িত্বশীল অনেকেই ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ নিজেই বিষয়টি তদারকি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই হজযাত্রীর টিকিট ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ধর্মমন্ত্রী সৌদি আরবে থেকেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান। তিনি বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেন। পাশাপাশি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ করেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দুই যাত্রী হজের উদ্দেশে সৌদি আরব গেছেন।

এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেন। প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দুই হজযাত্রীর সৌদিআরব যাত্রা নিশ্চিত করা হয়। শেষ পর্যন্ত ওই দুই হজযাত্রী বাংলাদেশের সর্বশেষ হজ ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেন বৃহস্পতিবার রাতে।

এক বার্তায় এ প্রতিবেদক দৈনিক নব অভিযান ও ডেইলি নিউজ বিডি অনলাইন-এর নির্বাহী সম্পাদক মো: লুৎফর রহমান (খাজা ) কে মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, শেষ মুহূর্তে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণে দুইজন হজযাত্রীর সৌদি আরব যাত্রা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে উদ্যোগ নেন। আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত ওই দুই হজযাত্রী বাংলাদেশের সর্বশেষ ফ্লাইটে হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব গেয়েছেন। আমরা ধর্মমন্ত্রীর এই মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞ।

এ বিষয়ে এনএসআই’র যুগ্ম পরিচালক পারভেজ মাহমুদ পারভেজ বলেন, ওই দুজন হজযাত্রী আসলে রিপ্লেস যাত্রী ছিল। তাদের একজন ২০ ও অন্যজন ২১ মে ভিসা পেয়েছে। ভিসা দেরি হওয়ায় টিকিট কনফার্ম ছিল না। অন্যদিকে হজক্যাম্পে সবকিছু ক্লোজ হয়ে যায়। হজের ইমিগ্রেশনও ক্লোজ হয়ে গেছে। আমি গিয়েছিলাম সিচুয়েশন দেখার জন্য। পরে দেখি যে, মসজিদের কাছে কাঁপছে দুইজন। বিষয়টি আমি ধর্মমন্ত্রীকে জানাই। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বললেন যে, যত টাকা হোক হজ যাত্রীকে পাঠাতে হবে। ঈদের কারণে ফ্লাইন্যাসের কর্মকর্তারাও ছুটিতে গেছেন। ফলে টিকিট ম্যানেজ করতে বেগ পোহাতে হয়েছে। আসলে ওই দুইজন হজযাত্রী ভাগ্যবান। ধর্মমন্ত্রী যা করেছেন তা নজিরবিহীন। শুধু তাই নয়, ফ্লাইট ছাড়ার ১৫ মিনিট আগে ইমিগ্রেশন ও ৪০ মিনিটের মধ্যে টিকিট করা হয়েছে। ধর্মমন্ত্রী নিজেই টাকা পরিশোধ করেছেন।

ফ্লাইন্যাসের ম্যানেজার মো. রফিকুর রহমান ডেইলি নিউজ বিডি অনলাইনকে বলেন, সংশ্লিষ্ট দুইজন হজযাত্রীর টিকিট বুকিং ছিল না। পরে ধর্মমন্ত্রী ফোন করায় আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। কেননা টিকিট বিক্রিও ক্লোজড। পরে ক্যাশ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ওই দুই যাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজগুলো করা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। শেষ ফ্লাইটে ওই দুইজন গেছেন। 

তিনি আরও বলেন, মনে হয় ২৫-৩০ বছরের পেশাগত জীবনে এমন ঘটনা বিরল। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন