সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নির্মইল ইউনিয়নের হাটশাওলী গ্রামে মসজিদের ইমামকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ঈদগাহ ও মসজিদে পৃথক জামাতে নামাজ আদায়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে হাটশাওলী গ্রামের মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আনোয়ারুল ইসলামকে কেন্দ্র করে গ্রামে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে সেই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং এর প্রভাব পড়ে ঈদুল আজহার জামাতেও। ঈদের দিন মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠে দুই পক্ষ পৃথকভাবে নামাজ আদায় করে।
অভিযোগ রয়েছে, ঈদুল আজহার পরদিন ২৯ মে ফজরের নামাজ শেষে ইমাম আনোয়ারুল ইসলামের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াসিন আলীর নাম উঠে আসে।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াসিন আলী বাদী হয়ে নওগাঁ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইমামসহ কয়েকজন গ্রামবাসীকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইমাম মাওলানা মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রায় ১৯ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করে আসছেন। সামান্য একটি মতবিরোধের জেরে তাকে মারধর করা হয়েছে, যা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না।
অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াসিন আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মসজিদের ইমামের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা হয়েছিল, যা পরে পারস্পরিকভাবে সমাধানও করা হয়। তবে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় এবং তিনিও হামলার শিকার হন। তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ করা হয় এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিত রায় প্রদান করা হয়। এরপরও মামলা হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
