আব্দুল মজিদ, নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক একটি উঠান বৈঠককে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামসংবলিত একটি পুরোনো সরকারি স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উদ্যোগে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, মানব পাচার, অটিজম, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ব্যানারে পূর্ববর্তী সরকারের সময় ব্যবহৃত স্লোগান “শেখ হাসিনার বার্তা, নারী-পুরুষ সমতা” লেখা থাকায় বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিনা আক্তার। ব্যানারে উল্লিখিত স্লোগান দেখে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “সরকারি একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে রাজনৈতিক ব্যক্তির নামসংবলিত স্লোগান ব্যবহার অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
৩ নম্বর বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফাইমা খাতুন বলেন, “আমার ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে এমন একটি ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।”
বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রমজান আলীর ফাকন দাবি করেন,
“ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আমরা আপত্তি জানাই। পরে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথন হয়। সরকারি অনুষ্ঠানে এ ধরনের বিতর্কিত উপস্থাপনা এড়ানো উচিত ছিল।”
ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম পল্লব বলেন, “এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিনা আক্তার বলেন, “এটি আমার ভুল হয়েছে। এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।”
এ ব্যাপারে নাটোর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নীলা হাফিয়া বলেন, “বর্তমান সময়ে পূর্ববর্তী সরকারের স্লোগানসংবলিত ব্যানার ব্যবহার করে সরকারি কর্মসূচি আয়োজন করা সমীচীন হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, “এ ধরনের ব্যানার ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি প্রকাশের পর বাগাতিপাড়াজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। তবে ব্যানার ব্যবহারের ঘটনায় যে প্রশ্ন উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা জরুরি।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বিষয়টির তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলা বা অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রশাসনও ঘটনাটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
