সোনারগাঁও প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত দুটি পৃথক ডাকাতি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। পৃথক অভিযানে পেশাদার ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া একটি শটগান এবং ৮ ভরি ৭ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুর ১টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২রা জুলাই ভোরে বন্দর উপজেলার হরিপুর এলাকায় অবস্থিত ১১০ কেভি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুটি শটগান লুট করে নিয়ে যায় একদল ডাকাত।
ঘটনার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল রূপগঞ্জের বরাবো ছাপড়া মসজিদ এলাকা থেকে ডাকাত দলের সদস্য মো. ফারুক হোসেন ওরফে ডাকাত ফারুক ওরফে আইস ফারুক (৪০)-কে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়াটিয়া বাসা থেকে লুট হওয়া একটি শটগান উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ফারুক একজন পেশাদার ডাকাত। তার বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ডাকাতি ও চুরিসহ ১২টির বেশি মামলা রয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
অপরদিকে, গত ৮ জুলাই রাতে সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জাপানপ্রবাসী এক পরিবারের গাড়ি থামিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে ডাকাতরা।
এ ঘটনায় তদন্তে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে থাকা ডাকাত দলের চার সদস্য—মো. কবির হোসেন (৪০), জুয়েল (২৬), সজিব (২৯) ও শাকিল (২৬)-কে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মাগুড়া প্লট এলাকার একটি বাগান থেকে ৮ ভরি ৭ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার, একটি ট্রাভেল ট্রলি ব্যাগ, একটি হাতব্যাগ, একটি স্কুল ব্যাগ ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাত দলের প্রধান কবিরের বিরুদ্ধে ডাকাতি, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে ১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলার আরও এক আসামি ডাকাত জসীম এখনও পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

