| ছবি : সংগৃহীত |
গোলাম রব্বানী-টিটু, (শেরপুর) প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় দীর্ঘদিন থেকে নাইট সহ কোচিং বাণিজ্য জমজমাট ভাবে চলে আসছে। সরকারের আইনকে অমান্য করে স্কুল কলেজে অধ্যয়নরত এমপিওভূক্ত ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকগণ কোচিং ব্যবসায় বেশি মনোযোগী হচ্ছে বলে এক সময়ে উপজেলার মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় জোরালো ভাবে উঠে আসে। বর্তমানে কোচিং বন্ধে জোরালো কোন ভ’মিকা রাখবেন এমন কোন কর্মকর্তার উদ্যোগ নেই।
সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেও বাস্তবে বন্ধ না হয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো নামে বেনামে শিক্ষকরা কোচিং সেন্টার খুলে শিক্ষা দিয়ে আসছে ছাত্র-ছাত্রীদের। এমনকি রাতের বেলায় ছাত্র-ছাত্রীদের নাইট কোচিং এর ব্যবস্থা রয়েছে ঝিনাইগাতীতে।
যুগের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অবিভাবকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এসব কোচিং সেন্টারের লেখাপড়ার মান নিয়ে। এবং কি বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে অবিভাবকরা কোচিং সেন্টারকে ঘিরে। নামে বে নামে অনেক কোচিং সেন্টার পরিচালিত হয়ে আসছে। যার ফলে অনেক সময় অপ্রিতিকর ঘটনার সম্ভাবনা ও শিক্ষার মান নিয়ে চিন্তিত থাকে অবিভাবকরা।
এ সমস্ত কোচিং সেন্টারে এমপিওভূক্ত স্কুল কলেজের শিক্ষকরা কোচিং সেন্টারে বেশী মনোযোগী হয়ে শিক্ষা দান করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ বিদ্যালয়ের ক্লাসের প্রতি নজর নেই বলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অবিভাবকদের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিনের।
প্রবীণ ব্যক্তিরা জানায়, আমাদের আমলে কোচিং ছিল না আমরা লেখাপড়া করে মানুষ হয়েছি। এবং কি বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদের চেয়েও আমাদের জ্ঞান কমতি নেই। নাম না বলার শর্তে এক প্রধান শিক্ষক জানান, কোচিং ব্যবসা বন্ধের কঠোর আইন রয়েছে সরকারের। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সচেতন হতে হবে যেন শিক্ষকরা ক্লাস বন্ধ করে কোচিং ব্যবসায় ঝুঁকে না পড়ে এবং কি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে নজর দিয়ে নির্দেশ প্রদান করতে হবে। তা হলেই কোচিং থেকে ফিরে এসে শিক্ষকরা ক্লাসের প্রতি বেশি মনোযোগী হবেন।
অবিভাবকরা জানায়, একটি ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়ার খরচ চালাতে মফস্বল এলাকা থেকে একজন কৃষকের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। শিল্প কারখানাবিহীন এই উপজেলায় দরিদ্রের হার বেশী, শিক্ষার হার তুলনামূলক ভাবে খুবই কম। খরচ চালাতে না পেরে অনেকেই ৮ম থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাদান দিয়ে ও ভাল প্রতিষ্ঠান না থাকার কারণে অবিভাবকরা খরচের অভাবে বিরত হয়ে যায় সন্তানের শিক্ষা দান থেকে। ফলে বেকারত্বের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে সিমান্তবর্তী এই উপজেলয়।
অপরদিকে কোচিং এর কথা শুনলে চমকে উঠে স্বল্প আয়ের মানুষেরা। ৪র্থ শ্রেণী থেকে শুরু করে এইচ,এস,সি পর্যন্ত ব্যাচ ˆতরী করে কোচিং ব্যবসা চালিয়ে আসছে এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা। দেখা যায় ৪র্থ শ্রেণী থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত একজন ছাত্র-ছাত্রীর মাসিক ফি ১হাজার থেকে ১৫শ টাকা, ৭ম শ্রেণী থেকে এইচ,এস,সি পর্যন্ত দুই হাজার টাকা গুনতে হয় একজন ছাত্র অবিভাবকের।
অবিভাবকরা দাবী জানিয়েছে, উপজেলা প্রশাসনকে এগিয়ে এসে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করে ক্লাসের প্রতি প্রত্যেক শিক্ষককেই মনোযোগী করে তুলে শিক্ষার হার বৃদ্ধির জোর দাবী সহ কিন্টার গার্ডেন স্কুলগুলোও একটি নিতীমালার মধ্যে আনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।
সচেতনমহল জানান, শিক্ষার ক্ষেত্রে কোন আপোষ নেই, কোচিংয়ে এমপিও ভুক্ত ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকরা কোচিং বানিজ্যে জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জোরদাবি জানান।