শ্রেনীকক্ষে হাঁটু পানি, পাঁচদিন ধরে বন্ধ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা


গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ ও শ্রেণীকক্ষে পানি জমে যায় টুঙ্গিপাড়ার বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। এতে বন্ধ থাকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এবার মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণীকক্ষে হয়েছে হাঁটু সমান পানি। তাই গত চারদিন ধরে বন্ধ রয়েছে পাঠদান। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ঐ মাদ্রাসার ৩৬০ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে পানি আটকে থাকায় বাড়ছে আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

মাদ্রাসা ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার একতলা ভবনেই চলে ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এরমধ্যে নূরানী বিভাগেই পড়াশোনা করে ২০০ জন শিশু শিক্ষার্থী। আর দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী ও খুলনা থেকে আগত প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করে। প্রতিবছর কয়েকদিন বৃষ্টি হলেই মাঠ ও শ্রেণীকক্ষ পানিতে থৈ থৈ করে। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারনে পানি নিষ্কাশনের কোন পথ ˆতরি সম্ভব হয় না। এলাকাবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবী অতিসত্ত্বর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে।

মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে নূরানী বিভাগটি সবার আগে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানা সহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আর্থিক সমস্যার কারনে পানি নিষ্কাশনের কোন পথ তৈরি করতে পারছে না। এতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে এই সমস্যা দূর করার দাবি জানাই।

২য় শ্রেনীর ছাত্রী হুজাইফা ইসলাম বলেন, গতবছরের মতো এবারও আমাদের শ্রেনীকক্ষ ও মাঠ পানিতে ভরে গেছে। তাই শিক্ষকরা আমাদের পাঠদান করাতে পারছে না, আর আমরা খেলাধুলাও করতে পারছি না।


সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই মাদ্রাসার শ্রেণীকক্ষ ও মাঠ তলিয়ে যায়। এই সময়টাতে নিরুপায় হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। কারন জমে থাকা পানি বের করার কোন উপায় নেই। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম সচল করতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা খুব জরুরি। তাই শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছি। মাদ্রাসা ও এতিমখানাটিতে জমে থাকা পানি জরুরী নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার ব্যবস্থা নিবো। এছাড়া আগামীতে যাতে শ্রেণীকক্ষ ও মাঠে পানি জমতে না পারে তার জন্য স্থায়ীভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন