বাগাতিপাড়ায় নাইটগার্ড লতিব সোনারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ


বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের ডুমরই গ্রামের বাসিন্দা ও চাঁদপুর রফাতুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাইটগার্ড লতিব সোনারের বিরুদ্ধে বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়, খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লতিব সোনার।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, লতিব সোনার নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া সরকারি উনয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি খাল খনন ও পাড় সংস্কার প্রকল্পে ৬২ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিলেন লতিব সোনারের আত্মীয়-স্বজন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মেয়ে-জামাই, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম এবং চাকরিজীবীও ছিলেন, যারা প্রকল্পে কোনো কাজ না করলেও শ্রমিকের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রদল কর্মী অভিযোগ করেন, খননকাজ চলাকালে একটি সেতুর পাশ থেকে অতিরিক্ত মাটি কাটায় সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। তারা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে লতিব সোনার ক্ষুব্ধ হন এবং পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন।

ছাত্রদলকর্মী শিপন ব‌লেন,  "আমরা শুধু ব্রিজটি রক্ষার জন্য অতিরিক্ত মাটি কাটতে নিষেধ করেছিলাম। পরে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।"

দয়ারামপুর ইউনিয়নের ডুমরই ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তয়জাল সর্দার দাবি করেন, লতিব সোনার নিজেকে ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে কখনো বিএনপির সদস্য ছিলেন না।

তিনি বলেন, "লতিব সোনার বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। তিনি স্কুলের নাইটগার্ড হলেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না। এমনকি স্কুলের সম্পত্তির ওপর অর্থের বিনিময়ে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এসব কর্মকান্ডে তার চাচাতো ভাই উপজেলা পরিষদে কর্মরত গোপন সহকারী (সিএ) আলমগীর হোসেনের প্রভাব রয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা আছে।"

চাঁদপুর বিএম কলেজে কর্মরত এক ব্যক্তি বলেন,  "খাল খননের সময় ব্রিজের নিচ থেকে মাটি কাটায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেছিলেন। পরে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।"

দয়ারামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাজদার রহমানও লতিব সোনারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "লতিব সোনার দীর্ঘদিন নাইটগার্ড হলেও দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। অতীতে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। বিএনপির নাম ব্যবহার করে অবৈধ পুকুর খনন, সরকারি সুবিধার কথা বলে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসবের পেছনে তার চাচাতো ভাই উপজেলা পরিষদে কর্মরত আলমগীর হোসেনের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।"

এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন লতিব সোনার। তিনি বলেন, "আমি ২০০১ সালে ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি ছিলাম। ৫ আগস্টের পর যা করেছি, তা দলের নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী করেছি।"

অন্যদিকে, উপজেলা পরিষদে কর্মরত গোপন সহকারী (সিএ) আলমগীর হোসেনও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতি করিনি। কুষ্টিয়ায় পড়াশোনা করেছি। উত্তরাধিকারসূত্রে আমাদের পারিবারিক সম্পদ রয়েছে, আমার স্ত্রীও চাকরি করেন। অবৈধ সম্পদের বিষয়টি মিথ্যা। লতিব সোনার আমার চাচাতো ভাই হলেও তাকে কোনো ধরনের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিইনি।"

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগে উল্লিখিত সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি সুবিধার নামে অর্থ আদায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে তারা মনে করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন