হাফেজ নজরুল : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে ওহেদ ভূঁইয়া (৬০) নামে এক কৃষককে গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ওহেদ ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির মৃত দুধ মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি স্থানীয় একটি ইরিস্কিম প্রকল্পের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে লক্ষ্মীপুর পশ্চিমপাড়ার আবু সাঈদের পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্বজনদের ভাষ্য, সোমবার রাত প্রায় ৮টার দিকে ওহেদ ভূঁইয়া বাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সারারাত খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার হয়।
নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের পাশাপাশি এলাকার একটি ইরিস্কিম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। ওই ইরিস্কিমকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের সন্দেহ।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
