ঝিনাইগাতী বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার


গোলাম রব্বানী-টিটু, (শেরপুর) : শেরপুর জেলার সিমান্তবর্তী নিন্ম আয়ের ঝিনাইগাতী উপজেলার  ঝর্ণা, খাল ও নদীর  বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় হাজার হাজার হত দরিদ্র শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। শিল্প কারখানাবিহীন ঝিনাইগাতীতে কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকার ফলে দরিদ্র শ্রমিক পরিবারগুলোর মাঝে নেমে এসেছে দারুণ অভাবের ছায়া। জানা গেছে, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে মহারশি, সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ইজারার মাধ্যমে বিগত সময়ে এ কাজে জড়িত হয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতো। পরবর্তীতে সরকারী এক সিদ্ধান্তে ওই বালু মহাল ইজারা ভূমি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপর ন্যস্ত করা হয়। মহারশি নদীর বালু মহালগুলো সীমান্ত এলাকায় হওয়ার কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ার ফলে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে য়ায় । যার ফলে বিপাকে পড়েছেন অবহেলিত ঝিনাইগাতী উপজেলার হত-দরিদ্র হাজার হাজার শ্রমিক। এতে করে সীমান্তবর্তী এলাকায় শ্রমিকদের কাজের কোন উৎস না থাকায় এসব বেকার শ্রমিকরা গারো পাহাড়ে অবৈধ ভাবে গাছ কাটার অপরাধ সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।বালু শ্রমিকরা জানায়,আমরা সরকারকে রয়েলটি দিয়ে বৈধ ভাবে বালু উক্তোলন করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে চলেছি এখন বন্ধ থাকায় সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না । অপর দিকে পাথর উক্তোলনও বন্ধ থাকায় অমরা পড়েছি বিপাকে কোন জায়গায় শ্রম দিতে পারি না। শিল্প কারখানাবিহীন উপজেলায় কাজ কর্ম না থাকায় পুলাপানগো নিয়ে কি ভাবে আমরা সংসার চালাবো তাই ভেবে চিন্তে না পেয়ে অনেকেই ঢাকায় চইলা গেছে আইরা ঋন কইরা খাইতাছি আইগো কিষের জীবন আক্ষেপ করে বললেন বালু উক্তোলনকৃত শ্রমিকরা। তারা আরো বলেন অবৈধ ভাবে এ কাজে জড়িত থাকার ফলে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে জেল জরিমানার ফলে নিশ্ব হয়ে পড়েছে অনেক শ্রমিক এখন তারা দাবি তুলেছে বৈধ ভাবে উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হক। এলাকার অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, ওই সব বেকার শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই পুনরায় পাথর ও বালু মহাল চালু করার দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বালু ব্যবসায়ীরা জানায়, বৈধ ভাবে এলাকা ভিত্তিক বালু উক্তোলন করা হলে শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে অন্যদিকে এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে । এই বালু মহলের সাথে স্থানীয় ট্রাক মালিকদের আয়ের উৎস্য জড়িত তাড়াও এখন অলস সময় কাটাচ্ছে। কিন্ত হঠাৎ করে বালু মহাল বন্ধ থাকায় শ্রমিক মালিক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান জানায়,সরকারের বিধি মোতাবেক এই উপজেলা থেকে খনিজ সম্পদ বিশেষ করে পাথর এবং বালু উক্তোলন করা জরুরি কারন মহিলা/পুরষ মিলে হাজার,হাজার মানুষের আয়ের উৎস্য জড়িত। উক্তোলন বন্ধ থাকার কারণে বেকার শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে বলে বৈধ উপায়ে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্ঠি কামনা করেছেন। পরিবেশবিদরা জানায় হত দরিদ্র শ্রমিকের বেকারত্ব দূরীকরণের স্বার্থে দ্রুত বালু মহাল চালু করে বৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা হলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব পাবে অপরদিকে স্থানীয় বেকারের সমস্যা সমাধানের একটি পথ পরিস্কার হবে । বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে পাথর ও বালু উত্তোলণের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোড় দাবী জানিয়েছেন তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন