রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও কর্নেল অলি আহমদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

মোঃ লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্) : আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। রোববার নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে এ ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

তফসিল অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় রয়েছে। এর মধ্যে তাদের কেউ একজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন গত রোববার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা পালটাপালটি বক্তব্য দিয়েছেন। জামায়াত নেতারা বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ-সদস্যরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারবেন না। এটা স্বাধীন ভোটাধিকারের পথে বড় ধরনের অন্তরায়। তারা এ অনুচ্ছেদের সংশোধন দাবি করেছেন। এর জবাবে বিএনপি নেতারা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই প্রশ্নটা অবান্তর। সবাই মিলে যদি আলোচনা করে, তাহলে এ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়টি সংসদে বিবেচনা করা হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি পদে গত ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। রোববার এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বেলা ১১টার দিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর এবং বেলা ১২টার কিছু আগে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন এএমএম নাসির উদ্দিন। এ সময় দুই প্রার্থীর প্রতিনিধিগণ নির্বাচনে কর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

অতঃপর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, প্রথমে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে, সেখানে যথার্থতা পাওয়া গেছে। কাজেই সেটা গৃহীত হয়েছে। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রও যথার্থ পাওয়া গেছে। উভয়ের মনোনয়নপত্র বৈধ।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি প্রার্থীর জন্য দুপুর ১২টা এবং জামায়াত জোটের প্রার্থীর জন্য বেলা ১১টা নির্ধারণ করে ইসি। বেলা ১১টার আগেই ইসিতে আসে জামায়াতের সংসদ-সদস্য আবদুল বাতেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল। এ সময় জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, এলডিপির মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবদুল বাতেন। ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হবে না। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করার জন্যই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, তা আমরা চাই। তিনি বলেন, বিষয়টি আরও সুন্দর হতো, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ-সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। আমরা মনে করি, এটা স্বাধীন ভোটাধিকারের পথে বড় ধরনের অন্তরায়। আমরা চাই, যে কোনো মূল্যে এ ধারাটি সংশোধন করতে হবে।

বেলা সাড়ে ১১টার পর ইসিতে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে জামায়াতের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা পরের চ্যাপটার (অধ্যায়)। সংসদ যদি বিবেচনা করে, সবাই মিলে এটা হতে পারে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই প্রশ্নটা অবান্তর এবং কনফিউশন (বিভ্রান্তি) সৃষ্টি করার মতো। তিনি বলেন, প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী আমাদের পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাদের সংসদ থেকে সংশোধন করতে হবে। এর বাইরে না।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন