এ.বি.এম.হাবিবুর রহমান : নওগাঁ শহরে কাপড়পট্টি শাপলা প্লাজার দ্বিতীয় তলায় "রহমান" টেইলার্সে হামলা করে, টেইলার্সের মালিক মোঃ আলমগীরকে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করার অভিযোগ করেছেন। নওগাঁ সদর মডেল থানা সেটিকে জিডি হিসেবে নিয়ে তদন্ত করছেন।
গত বুধবার (২৯জুলাই) সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রুবেল হোসেন, ফারুক হোসেন, আঃ খালেক, আজাদ, মোরশেদ,মাহমুদুল, হেলাল, মজিবর, মতিউর রহমানসহ অজ্ঞাত ৮/১০ জন হঠাৎ করে নওগাঁ শহরের কাপড়পট্টি বাজারস্থ শাপলা প্লাজার দ্বিতীয় তলায় "রহমান" টেইলার্সে ঢুকে টেইলার্সের মালিক আলগীর হোসেনকে মারতে মারতে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে নিয়ে যায়। এরপর ভুক্তভোগীসহ একাধিক ব্যক্তি জানায়, নিচে নিয়ে গিয়ে টেইলার্স এর মালিক আলমগীরকে সকলে মিলে এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করতে শুরু করে এবং টেইলার্স এর দোকানে তালা লাগিয়ে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শাষন, গর্জন ও হত্যার হুমকি দেয়। তিনি বলেন, তারা দেড় লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে এবং সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও টিপসহি নেওয়ার চেষ্টা করে, এমন সময় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন দিয়ে সহযোগিতা চাইলে, সেখানে নওগাঁ সদর থানার পুলিশ আসে এবং আশেপাশ থেকে মাহিদ হোসেন, রবিউল ইসলাম, ফেরদৌস পার্শের মার্কেটের মালিকসহ স্থানীয় দোকানদারেরা ও জনতা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান।
ভুক্তভোগী আলমগীর জানায়, এর আগে তার ছোটভাই আহসান হাবীব প্রায় ৭ বছর ধরে সেখানে টেইলারী ব্যবসা করতো। তার ছোট ভাইকেও তারা এভাবে অত্যাচার,নির্যাতন করতো। সে এদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ঢাকায় চলে যায়, সেখানে কর্মরত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন,কোন কারণ ছাড়াই শুধু হিংসা করে তাকে এমন হেনস্থা, মারপিট,অপমান গুলো করছে তারা। এক সময় তিনি এই টেইলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে না জানিয়ে, তাকে বাদ দিয়ে অন্য একটি সমিতি তৈরি করে। আলমগীর জানান,যখন তিনি জানতে পারেন তাকে বাদ দিয়ে অন্য একটি সমিতি তৈরি করেছে,তখন তিনি আগের কমিটিতে পদত্যাগ পত্র দিয়ে বেড়িয়ে আসেন। এরপর থেকেই মুলত ব্যবসায়ীক হিংসা মনভাব নিয়ে এমন আক্রমণ করেছেন বলে তিনি দাবী করেন।
এ বিষয়ে মুল বিবাদী রুবেল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, রহমান টেইলার্সের মালিক আলমগীরের ছোট ভাই আহসান হাবীব ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। তিনি মারা যাওয়ার পর আলমগীরকে ভারপ্রপ্ত সম্পাদক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে এবং যার সভাপতি তিনি (রুবেল হোসেন) তিনি বলেন, আলমগীর প্রায় প্রতিটি কাপড়ের দোকানের মালিকের সাথে একটি অবৈধ চুক্তির মাধ্যমে সকল কাস্টমার গুলো তার দোকানে পাঠিয়ে দেয় যাহা তাহাদের সমিতির নিয়মের বহির্ভূত। তিনি বলেন,এতে আমাদের নওগাঁর অনেক নামী-দামী টেইলার্সর মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ নিয়ে তাকে একাধিকবার সতর্কও করা হলেও সে কর্ণপাত করে নাই। এক প্রকার বাধ্য হয়েই সমিতির প্রায় সকলবডি মিলেই তার কাছে গিয়ে, তাকে বেড়িয়ে আসতে বলা হয়। সে বেড়িয়ে না আসলে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামানো হয় এবং তার দোকানে তালা লাগানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সকলে মিলে বসে আলোচনা সাপেক্ষে তার দোকানঘরও খুলে দেওয়া হয়েছে বলে রুবেল জানান। শুধু ধারণা ও অনুমান থেকে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, কোনো কাপড়ের দোকানের মালিকের সাথে অবৈধ চুক্তির কোন তথ্য প্রমান তিনি দিতে পারেন নাই
এ বিষয়ে অভিযোগ ও জিডির নওগাঁ সদর থানার তদন্তকারী অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি অভিযোগ ও জিডি পেয়েছেন, এ বিষয়ে আদালত কর্তৃক তাকে তদন্তের দ্বায়িত্ব দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তিনি প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানান।
