জমি নিয়ে বিরোধ: এনসিপি নেতা নিশাদের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে চাচীর পাল্টা বক্তব্য


দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা সদস্যসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ইমরান চৌধুরী নিশাদের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর চাচী জেবউন নেহার।

সম্প্রতি নিশাদের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেন জেবউন নেহার। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন ইমরান চৌধুরী নিশাদ। এর প্রতিবাদে শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাঙামাটি (ছোয়ানী) এলাকায় নিজ বাসভবনে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন জেবউন নেহার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেবউন নেহার বলেন, মোমিনুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ চৌধুরী ও মোজাহারুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর স্বামী রবিউল ইসলামের চাচাতো ভাই। এনসিপি নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ তাঁদের ওয়ারিশ।

জেবউন নেহারের দাবি, গত ৬ আগস্ট জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁরা রাঙামাটি মৌজার ১১৪৫ দাগের বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁর অনুপস্থিতিতে টিনের দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন। ঘটনার দুই দিন পর তিনি ফুলবাড়ী থানায় জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান করে সংবাদ প্রকাশ করেন।

তাঁর অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট বিবাদীপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যা এবং প্রকাশিত সংবাদকে অপপ্রচার বলে দাবি করে। জেবউন নেহার বলেন, ওই দাবি সঠিক নয়।

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের একটি রায়ে জমির দলিলের দাগ নম্বর ১১৪৫-এর পরিবর্তে ভুলবশত ১৬৪৫ লেখা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই টাইপিং ভুলকে ভিত্তি করে তাঁদের বৈধ জমিকে অবৈধ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তবে জমির দলিলসহ অন্যান্য কাগজপত্রে দাগ নম্বর ১১৪৫ উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, তাঁরা ১৯৮৮ সালে ওই জমি ক্রয় করেছেন। একই মালিকের কাছ থেকে বিবাদীপক্ষ ১৯৯১ সালে কীভাবে ওই জমি ক্রয় করেছে, সেটিই তাঁদের প্রশ্ন।

জেবউন নেহার আরও অভিযোগ করেন, আগের সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর ইমরান চৌধুরী নিশাদ তাঁর জমি দখলের তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন। তাঁর জমিতে টিনের ঘর নির্মাণে বাধা দিলে বিল্ডিং ভেঙে জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে বিষয়টি তদন্ত করে ইমরান চৌধুরী নিশাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান জেবউন নেহার।

তবে জেবউন নেহারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরান চৌধুরী নিশাদ। তিনি বলেন, জমি মাপজোখের সময় জেবউন নেহারদের পক্ষ থেকেই তাঁকে ডাকা হয়েছিল। তিনি শুধু জমি মাপজোখের সময় উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ইমরান চৌধুরী নিশাদ বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে তিনি শুধু বলেছিলেন, মাপজোখের পর তাঁদের সীমানায় অতিরিক্ত জমি পাওয়া গেলে তাঁরা তা ছেড়ে দেবেন। আর তাঁদের সীমানায় জমি পাওয়া গেলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তা আদায় করবেন। তাঁর ওই বক্তব্যকে হুমকি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমির কাগজপত্র ও সীমানা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন জেবউন নেহার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন