সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে শ্যামলের স্ত্রী মিতু
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কর্মরত এএসআই ইলিয়াস হোসেন ও কনস্টেবল আশরাফের বিরুদ্ধে এক মাদকসেবীকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগটি সম্পুর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন, আদমজী নগর বিহারি কলোনির মাদকাসক্ত শ্যামল ও তার স্ত্রী মিতু।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারী কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্যামল নামে এক মাদকসেবীকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন এএসআই ইলিয়াস হোসেন ও কনস্টেবল আশরাফ।
অভিযোগ ওঠে, আটকের পর তাকে থানায় না-নিয়ে এএসআই ইলিয়াস শ্যামলের স্ত্রী মিতু আক্তারের সঙ্গে কনস্টেবল আশরাফ এর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং উক্ত টাকার বিনিময়ে শ্যামলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য রফা-দফা করেন। সেই অনুযায়ী মিতু আক্তার ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দাবিকৃত টাকা কনস্টেবল আশরাফের নিকট দেওয়ার পর শ্যামলকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গেলে শ্যমলের স্ত্রী মিতু বলেন, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, কারন আমি অত্যন্ত গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই, আমি এতো টাকা কোথায় পাবো? এই বলে তিনি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে বলেন, প্রকৃতপক্ষে এই এলাকার স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী আলী নামে পরিচিত।
তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন, তার নিকট আত্মীয় একজন সাংবাদিক তার কাছে আমি যদি গিয়ে না-বলি যে, আমার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে এএসআই ইলিয়াস আমার নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন, তাহা হলে আমার স্বামী সহ আমাকেও মাদকদ্রব্য দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিবে। তাই উক্ত ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে সাজানো ও চক্রান্ত মূলক।
এ-বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য এএসআই ইলিয়াসের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেই ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।
প্রকৃতপক্ষে আমরা দেশ ও জনগণের সেবক, পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আমরা সর্বদা সচেতন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে অনুসরণ করে আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে থাকি, তাই ঐ সকল অভিযানের কারণে কারো স্বার্থে আঘাত লাগায় কেউ আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ ও ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
সুতরাং এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ ও ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে, সঠিক তথ্য যাচাই করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জরুরি বলে মনে করি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয সচেতন নাগরিকরা।
