নবীনগরের ১৫৪ শিক্ষার্থীর ভার ৪ শিক্ষকের কাঁধে, শ্রেণিকক্ষ নেই—খোলা আকাশেই পাঠদান


মো তরিকুল ইসলাম (অনিক), নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া :  

ঝড়-বৃষ্টিতে বন্ধ থাকে ক্লাস, নাজুক যাতায়াত ব্যবস্থা; দীর্ঘদিনেও মেলেনি কার্যকর সমাধান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ২০৬ নম্বর নাটঘর ঋষিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট। ফলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনেক সময় খোলা আকাশের নিচে বসেই পাঠ নিতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়-তুফান শুরু হলে বন্ধ রাখতে হয় ক্লাস। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ কম থাকায় বিদ্যালয়ের খোলা জায়গায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেখানে পাঠদান সম্ভব না হওয়ায় অনেক সময় ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। ফলে নিয়মিত পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথও নাজুক। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদা-পানি ও চলাচলের অনুপযোগী রাস্তার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রতিকূল পরিবেশ পেরিয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা তপন ঋষি, খোকন ঋষি, হরিধন ঋষি, মিলন ঋষি ও বিশ্ব ঋষি বলেন, “শিশুরা অনেক কষ্ট করে এখানে পড়াশোনা করছে। শ্রেণিকক্ষের অভাবে তাদের খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হয়। বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাটিও ভালো নয়। এসব কারণে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। দ্রুত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান চাই।”

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কুলসুম আক্তার বলেন, “এলাকাবাসীর দাবিগুলো এবং শিক্ষার্থীদের অসুবিধার বিষয়গুলো আমি নিয়মিত সভায় উপস্থাপন করি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা পাইনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘদিনের। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন অবকাঠামোগত সংকট ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়—এখন এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন