নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোহাম্মদ আলী মর্তুজার বিরুদ্ধে পদোন্নতি, বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সম্মানী গ্রহণ এবং প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, চাকরি বিধিবিধান অনুযায়ী পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত থাকা সত্ত্বেও মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বিভাগীয় পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার পরও তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি লাভ করেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া যথাযথ দায়িত্ব পালন না করেও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ ও প্রোগ্রেস প্রকল্প থেকে নিয়মিত সম্মানী গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে সিসিপি প্রকল্প, আইএম জাপান ও ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স থেকেও তিনি সম্মানী গ্রহণ করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব পালন না করেও তাকামল প্রকল্প থেকে নিয়মিত সম্মানী গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি তাকামল ফান্ডের অর্থে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে অফিসে যাতায়াতের অভিযোগও রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বেও অনিয়মের অভিযোগ- নথি অনুযায়ী, “৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে ১টি ইনস্টিটিউট মেরিন টেকনোলজি স্থাপন” শীর্ষক প্রকল্পে মোহাম্মদ আলী মর্তুজা ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ থেকে ২৬ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত উপপ্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে ২৬ এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত তিনি একই প্রকল্পের সাময়িক প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে টিটিসিগুলোতে সরবরাহের জন্য কম্পিউটার ট্রেডের প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি ই-জিপির মাধ্যমে কেনাকাটার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই ক্রয় কার্যক্রমে সরকারের প্রায় ৫ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে।
টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন- নথিতে বলা হয়েছে, উল্লিখিত ক্রয় কার্যক্রমের টেন্ডার ওপেনিংয়ের সময় পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা), ৪র্থ গ্রেড সভাপতি থাকলেও টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটিতে সাময়িক দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী মর্তুজা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
নিয়ম অনুযায়ী বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ), ৩য় গ্রেডের কর্মকর্তার টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা থাকলেও তাকে সভাপতি না করে মোহাম্মদ আলী মর্তুজা নিজেই ওই দায়িত্ব পালন করেন বলে নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার উদ্দেশ্যে অনৈতিকভাবে প্রক্রিয়াটি পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
