বরগুনায় ডেন্টাল চেম্বার গজিয়ে উঠছে ব্যাঙের ছাতার মতো: বিএমডিসি ছাড়াই চলছে চিকিৎসা

 
 




 বরগুনা জেলা প্রতিবেদক


বরগুনা জেলায় চোখে পড়ার মতো হারে গড়ে উঠছে অসংখ্য ডেন্টাল চেম্বার। এসব চেম্বারের অধিকাংশের নেই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর। অথচ প্রতিদিনই চলছে দাঁতের চিকিৎসা, রুট ক্যানেল, এক্সট্রাকশন, ব্রেসেসসহ নানা ধরণের চিকিৎসা কার্যক্রম। এ নিয়ে এলাকায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি বরগুনার চারজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক চেম্বারে চিকিৎসক পরিচয়ে যারা বসছেন, তাঁদের নামের পাশে বিএমডিসির নাম্বারই নেই। অথচ তাঁরা নির্দ্বিধায় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।




‘সুরাবি ডেন্টাল’-এর চিত্রঃ



স্থানীয় একটি চেম্বার সুরাবি ডেন্টাল-এ সাংবাদিকরা সরেজমিনে গেলে দায়িত্বরত এক “ডেন্টাল চিকিৎসক” বলেন,
“বিএমডিসির নাম্বার না থাকলেও দাঁতের চিকিৎসা দেয়া যায়। আমরা রুট ক্যানেল, স্কেলিংসহ সবই করি। আমাদের হাইকোর্ট থেকে মৌখিক নির্দেশ আছে।”

এই দাবির স্বপক্ষে তিনি ২০১০ সালের একটি অজানা রিটের কথা উল্লেখ করেন, কিন্তু কোনো লিখিত আদেশ বা বৈধ নথি দেখাতে পারেননি।

 বিএমডিসি ও আইন কী বলছে?
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিধান অনুযায়ী, বিএমডিসি অনুমোদিত রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত কেউ নিজেকে ‘চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচয় দিতে বা চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে পারেন না। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একজন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের মন্তব্যঃ
 “বিনা রেজিস্ট্রেশনে চিকিৎসা দেয়া শুধু বেআইনি নয়, রোগীর জীবনের জন্যও হুমকিস্বরূপ। দাঁতের ভুল চিকিৎসায় সংক্রমণ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।”

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:
সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে বরগুনার এসব অবৈধ ডেন্টাল চেম্বার দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নইলে এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন