লালবা‌গে বউ-শাশুড়ি মিলে ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ


মোঃ লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্) :

রাজধানীর লালবাগে নজরুল ইসলাম (৪৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার গলাকেটে হত্যার অভিযোগে উঠেছে তার স্ত্রী এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে।

গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় লালবাগের আরএনডি রোডের জমজম টাওয়ারের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহত নজরুল ইসলাম স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ইমামবাগ শাখায় ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের সময় গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

তবে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রীর দাবি, নজরুল ইসলাম ঋণগ্রস্থ হওয়ায় ঋণের চাপে ঘরে থাকা বটি দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেছেন।

‎‎অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের দাবি, নজরুলের মা ছেলের বাসায় বেড়াতে আসায় প্রায়ই স্ত্রী ও শাশুড়ি তার সঙ্গে ঝগড়া করতেন। তারা নজরুলের মা-কে সহ্য করতে পারতেন না। তা নিয়েই ঝগড়া হতো। সবশেষে শুক্রবার নজরুল জুমার নামাজ পড়ে বাসায় এসে ঘুমানোর পর তাকে বটি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

‎লালবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেগ উদ্ধার করে। নিহতের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

‎নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার ভাই নুরুল ইসলাম ডেইলি নিউজ বি‌ডি অনলাইন‌কে এক সাক্ষা‌তে জানান, ‘শুক্রবার নামাজের আগে আমার ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। নামাজের পর হঠাৎ একটা নাম্বার থেকে কল আসে। আমি রিসিভ করার পর একটা মহিলা কণ্ঠ শুনতে পাই। অনেকক্ষণ পর পরিচয় দেন, জানান তিনি আমার ভাইয়ের শাশুড়ি। তিনি জানান, আমার ভাইয়ের গলা দিয়ে রক্ত পড়ছে। আমি তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। কিন্তু আমার ভাইয়ের স্ত্রী আর শাশুড়ি তাতে কর্ণপাত করেনি। তারা আমার ভাইকে হাসপাতালে নেয়নি।’

‎তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে গতকাল এবং আগে কথা হয়েছিল। সে আমাকে বলেছে, আমার মা তার বাসায় বেড়াতে যাওয়ায় তার স্ত্রী এবং শাশুড়ি ঝগড়া করেছে। অথচ, আমার ভাইয়ের শ্বশুর মারা যাওয়ার পর গত কয়েক বছর ধরে আমার ভাইয়ের শাশুড়ি তার বাসায় থাকতেছে। আমার মা যাওয়ায় তাদের নাকি সমস্যা হচ্ছে। আমার ভাই তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে বারবার বুঝিয়েছে যে, তোমার আর আমার মা তো একই। দুজনের মা মিলেমিশে থাকবে। আমাদের বাচ্চাদের সময় দেবে। কিন্তু আমার ভাইয়ের স্ত্রী কোনো কথা শুনতে চাইতো না। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের ঝগড়া হতো।’

‎নুরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘গতকাল জুমার নামাজের পর আমার মা কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। সে রুমের দরজা আমার ভাইয়ের স্ত্রী আর শাশুড়ি মিলে বাইরে থেকে লাগিয়ে দিয়েছিল। আমার মা কোনোভাবে দরজা খুলতে পারছিল না। পরে আমার ভাইয়ের শাশুড়ি অবস্থা খারাপ দেখে মায়ের রুমের দরজা খুলে দেয়। এসময় আমার মা নিচে গিয়ে কয়েকজনকে ডেকে এনে ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ততক্ষণে আমার ভাই মারা গেছে।’

লালবাগ থানার ও‌সি মো. মোস্তফা কামাল খান ডেইলি নিউজ বি‌ডি অনলাইন‌কে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা নিহতের স্ত্রী ও শাশুড়িকে আমাদের হেফাজতে নিয়েছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে নিহতের স্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, ওই ব্যাংক কর্মকর্তা অনেক টাকা ঋণ করেছে। যা শোধ করতে তিনি হিমশিম খাচ্ছে।’

এছাড়া গতকাল বাসা ভাড়া নিয়ে দাঁরোয়ানের সঙ্গে ঝামেলা হয়। এসব ঘটনার কারণে তিনি গলাকেটে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে তার স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে ঘটনা আমাদের কাছে সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা নিহতের স্ত্রী ও শাশুড়িকে হেফাজতে রেখেছি।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন