বেআইনী ভাবে তেল বিক্রির ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদকর্মীর মোবাইল জব্দ করে হুমকিধামকি প্রদর্শন
এসএম মিরাজ হোসাইন টিপুঃ
বেআইনি ভাবে তেল বিক্রি করার ভিডিও ধারণ করায় সংবাদকর্মীর মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ধারণকৃত ভিডিওসহ মোবাইলে থাকা সকল প্রকার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ ও মোবাইলে সংরক্ষিত সকল প্রকার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলেট করে অশালীন ভাষায় হুমকিধামকি প্রদর্শন করেছে তাসফিন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক কর্তৃপক্ষ।
গত রোববার ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২ ঘটিকার সময় গোপনে প্রায় ৫-৭ টি মোটর বাইকসহ একাধিক ৫ লিটারি প্লাস্টিকের গ্যালনে অকটেন বিক্রির ভিডিও ধারণ করায় গণমাধ্যম কর্মীর মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ সহ সংবাদকর্মীর মোবাইলে থাকা সকল প্রকার অতি প্রয়োজনীয় সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করে দিয়েছে পাশাপাশি ওই গণমাধ্যম কর্মীকে অশালীন আচরণ সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করেছে অভিযুক্ত তাফসিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকের লোকজন।
উল্লেখ্য যে, গত রোববার দিবাগত রাত প্রায় বারোটার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি অংশে তাসফিন ফিলিং স্টেশনে জাতীয় দৈনিক আজকের দর্পণের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম মিরাজ হোসাইন টিপু ও তার সহকারী নোয়াখালীর ফেনী থেকে জরুরী সংবাদ সংগ্রহের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ তাদের বাইকের তেল ফুরিয়ে গেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিমাংশে অবস্থিত তাফসিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করে দেখতে পান, কয়েকটি মোটরবাইকে অকটেন দেয়া হচ্ছে।
তেল দেয়ার ঐ মুহুর্তে মিটারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মোটর বাইকের সাথে একাধিক ৫ লিটারের পানির বোতলে তেল ভর্তি করে দিচ্ছেন পাম্পের মিটারম্যান। এই দৃশ্যকে স্বাভাবিক মনে করে সাংবাদিক এস এম মিরাজ হোসেন টিপু তার মোটর বাইকে ৩ লিটার তেল দেওয়ার কথা বলেন।
মিটারম্যান তেল দিতে অস্বীকার প্রকাশ করে বলেন, এগুলো পাম্পের মালিকানাধীন মোটর বাইক ও প্রাইভেট কারের জন্য দেওয়া হচ্ছে, সুতরাং বাহিরের কোন প্রকার বাইক বা প্রাইভেট কারের জন্য এই মুহূর্তে কোন প্রকার তেল বিক্রয় করা যাবে না। কিন্তু মিটারের সামনে থাকা বাইক ও ৫ লিটারি পানির বোতলে তেল দেওয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে সাংবাদিক মিরাজ হোসাইন টিপু ও তার সহকারীর সাথে বাক-বিতান্দার সৃষ্টি হয়।
ওই সময় মিটার পয়েন্টে থাকা বাইক ও ৫ লিটারি বোতলে তেল দেওয়ার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করলে পাম্প মালিক কর্তৃপক্ষ তাদের মোবাইল ছিনিয়ে নেন এবং সাথে সাথে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ সহ মোবাইলে থাকা সকল প্রকার অতি প্রয়োজনীয় ও জরুরী ভিডিও ফাইল ও গ্যালারিতে থাকা সকল প্রকার সংগ্রহকৃত ফাইল ডিলেট করে দেন।
উক্ত বিষয়ে সাংবাদিক টিপু প্রতিবাদ করলে পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে অশালীন আচরণ করেন এবং পাশাপাশি বলেন যে, আপনি যা পারেন করেন এইরকম হাজার পত্রপত্রিকা আমাদের পকেটে থাকে। আমরা এরকম সাংবাদিক আমাদের পকেটে রাখি, সুতরাং আপনি যা পারেন করেন। আমি ও আমার পাম্পের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে কিছুই করতে পারবেন না। কারন আমরা সকলকে ম্যানেজ করেই এই এইগুলো করি।
ডিসি, এসপি, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে কোন প্রকার লাভ নেই। আপনি চাইলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে পারেন। ওই মুহূর্তে সাংবাদিক মিরাজ হোসেন টিপু দাউদকান্দি থানায় ফোন করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করলে অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি সম্পর্কে একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলেন, কিন্তু রাত বেশি হওয়ার কারণে থানায় গিয়ে অভিযোগ না করেই বাসযোগে বাড়ি ফেরেন।
এমতাবস্থায় সংবাদকর্মীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত হলো পুলিশ সাংবাদিক ও জরুরী প্রয়োজনে হাসপাতালের রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে, সরকার বর্তমান এই জ্বালানি সংকট কালীন মুহুর্তে সর্বাধিক গুরুত্ব দিলেও কিছু অসাধু পেট্রোল পাম্প মালিক ঐ সকল গুরুত্বকে মূল্যায়ন না করে অবৈধ উপায়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারি করা সহ এরকম সংকটাপূর্ণ মুহূর্তে দেশের জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে সমস্যার সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।
তাই উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি মন্ত্রণালয় সহ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির হস্তক্ষেপ কামনা করা জরুরী বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
