মুরাদনগর বাঙ্গরায় ছাত্রীর সাথে কেলেংকারীর বিচারের ভয়ে আত্মহত্যা

 


হাফেজ নজরুল, মুরাদনগর (কুমিল্লা) :

মুরাদনগর বাঙ্গরায় এক স্কুল ছাত্রীর সাথে কেলেংকারীর বিচারের ভয়ে গলায় দড়ি দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম (৫৬) নামের একজন আত্মহত্যা করে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা রহস্যের ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা?

তদন্ত করছে পুলিশ। গ্রেফতার -১, অজ্ঞাতনামা আসামী ৮-১০।

স্থানীয় নাম না প্রকাশের অনিচ্ছুক অনেকে বলেন, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা ৮ নং চাপিতলা ইউনিয়ন খাপুড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৫৬) ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে (১২) কে গত মঙ্গলবার তার ভাড়াটিয়া বাড়ী থেকে পাশের বাড়ীতে যাবার পথে ওই জাহাঙ্গীর আলম শ্লীলতাহানি  করার অভিযোগ উঠে।এ অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মেয়ের বাবা বাবুল মিয়া তার স্ত্রী রেজিয়া খাতুন জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর করে এবং স্থানীয় গন্যমান্যাব্যক্তি বর্গের কাছে বিচার দেয়। এবিচার স্থানীয়রা করতে পারবে না বলে জানালে গত মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক একত্রিত হয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে খাপুড়া বাস টার্মিনাল একটি চা স্টলের সামনে মারধর করে এখবর শুনে জাহাঙ্গীর আলম ছেলে সুমন তার বাবাকে বিচার আশ্বাসে দিয়ে বাড়ীতে নিয়ে যায়। বাতাসে এমন কথা ভেসে বেড়াচ্ছে জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর করে স্থানীয় যুবকরা গলায় দড়ি বেঁধে ঘরের তীর ঝুলিয়ে রাখে। জাহাঙ্গীর আলম পা মাটির লেগে ছিল।

নিহতের ছেলে সুমন মিয়া বাদী হয়ে দুইজন নাম উল্লেখ সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বাঙ্গরাবাজার থানা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয় ইউপির সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। আজকে বাড়ীতে এসে এমন ঘটনা গ্রামের মানুষের মুখে শুনছি। তবে জাহাঙ্গীর আলম কয়েক বছর আগে ঝিয়ারীকে ধর্ষনের অভিযোগে জেল হাজতে ছিল।

মেয়ের বাবা বাবুল মিয়া বলেন, জাহাঙ্গীর আলম আমার ভাড়া বাসা সামনে থাকে, আমার ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে (১২)কে বাঁশ ঝাড়ের ঝুপড়ি নিয়ে শ্লীলতাানি করেছে। সামাজিক বিচার চেয়ে না পেয়ে আমি ও আমার স্ত্রী জাহাঙ্গীরকে পিঠে একটি লাঠি দিয়ে দুইটা আগাত করি। পরে জাহাঙ্গীর বাড়ীতে চলে যায় পরে দ্বিতীয় বার কে বা কাহারা জাহাঙ্গীর কে মারধর করে আমার জানা নেই। রাতে জাহাঙ্গীর আলম গলায় দড়ি দিয়ে আত্মা হত্যা করেছে। সমাজে রব উঠেছে জাহাঙ্গীর আলম মেরে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।আমার বাড়ী ফেনী জেলা দাগনভূইয়া উপজেলা চন্ডীপুর গ্রামের কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা চাপিতলা ইউনিয়ন খাপুড়া গ্রামের বাস টার্মিনাল সুলতান মিয়া চা স্টলে চাকরি করি।

বাঙ্গরাবাজার থানা ওসি তদন্ত মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সন্দেহ জাহাঙ্গীর আলমকে মেরে ঘরে তীর ঝুলিয়ে রাখছে। এমন তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। এঘটনা সাথে জড়িত বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে নিহতের ছেলে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন