নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপুরের বাছেতপুর দ্বিমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরকারি বরাদ্দকৃত অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সভাপতির যোগসূত্রে শিক্ষক নিয়োগে লাখ লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালিয়েছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সরকার থেকে শিক্ষক, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫ লাখ টাকা অনুদান আসে। তবে শিক্ষকদের মধ্যে মাত্র ১ লাখ টাকা বিতরণ করা হলেও বাকি অর্থের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
এসব অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা গত বছরের মতো এবারও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এতে প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফ আলীর পদত্যাগ দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, এসব অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি শাহেদুল ইসলাম দিপুর কাছে দাবি জানিয়েছেন—
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত শুরু করতে হবে।
দুর্নীতির প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের অনুদানের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। সেই শিক্ষাঙ্গনে যদি দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বিস্তার লাভ করে, তবে পুরো সমাজ ও জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাই তারা আশা করছেন, সভাপতি ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করবেন।
