দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ :
গোপালগঞ্জে ১২৮৫ টি মন্ডপে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার মহাসপ্তমী পূজায় মন্ডপে মন্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল দেখার মতো। আজ ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ধুমধামে মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১ অক্টোবর বুধবার মহানবমী ও ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তী ঘটবে শারদীয় দূর্গাপূজার।
জেলার অধিকাংশ পূজা মন্ডপে সাজ-সজ্জা ও রং এর কাজ হয়েছে দেখার মত। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে প্রায় মন্ডপগুলো। দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলার ৫ টি উপজেলায় এখন চলছে উৎসবের আমেজ। ঘরে বাইরে পূজাকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন পূজারীরা। শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিপনী বিতানগুলোতে এখনো চলছে জমজমাট পূজার কেনাকাটা।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন বিপণীবিতানগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, পোশাক, জুতা-সেন্ডেল, কসমেটিক্স ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। বিপণীবিতানগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও আছে প্রচুর লোকসমাগম।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলায় এক হাজার ১২৮৫ টি মন্ডপে ও মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এরমধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫৩ টি, কোটালীপাড়া উপজেলায় ৩২১ টি, মুকসুদপুর উপজেলায় ২৯৫ টি, কাশিয়ানী উপজেলায় ২২৪ টি ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৯০ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ,শনিবার মহাপঞ্চমী বোধনের মধ্য দিয়ে মূলত দূর্গাপূজা শুরু হয়েছে। আশা করা যায়, কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এবছর উৎসব মূখর পরিবেশে জেলার প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামন্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা ডিউটিতে থাকবে। এছাড়া র্যাব-সেনাবাহিনীও টহলে থাকবেন।
জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গাপূজা শেষ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলার এক হাজার ৭৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পূজান্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া সবসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা থাকবে।
Tags
গোপালগঞ্জ
.jpg)