খাগড়াছড়িতে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ১৪৪ ধারা জারি অব্যাহত


জীতেন বড়ুয়া (খাগড়াছড়ি) :

চট্টগ্রাম ও ঢাকা  দু টি সড়কে বাদে ৪র্থ দিনের মতো অন্যান্য সড়কে টানা অবরোধ কর্মসূচি চলছে। 

জীতেন বড়–য়া,খাগড়াছড়ি॥ খাগড়াছড়ির সার্বিক পরিস্থিতি আপাদত শান্ত রয়েছে । জেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি । উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার খাগড়াছড়ি সেনা নিবাসে প্রশাসন ও জেলার সুশীল সমাজের সাথে মত বিনিময় করছেন । তবে খাগড়াছড়িতে  প্রশাসনের জারী করা ১৪৪ ধারা খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও গুইমারা উপজেলায় এখনো বলবত আছে ।খাগড়াছড়ির দু টি সড়কে বাদে ৪র্থ দিনের মতো টানা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলছে। ফলে জেলার আভ্যন্তরীন সড়কে যানবাহন চলাচল করছেনা। দূর পাল্লার বাস গুলো সীমিত আকারে চলাচল করছে । ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নৈশ্য কোচ গুলো নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌছেছে ।শহর, শহরতলীতে সীমিতভাবে ইজিবাইক ও মটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। গত, সোমবার বেলা ১২টা থেকে খাগড়াছড়ির সাথে ঢাকা ও চট্টগ্রাম এই দুই সড়কে অবরোধ শিথিল ঘোষনা করেছে অবরোধ আহবানকারী জুম্ম ছাত্র-জনতা। অন্যান্য সড়কে অবরোধ চলবে বলেও তারা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান।এদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সড়কে অবরোধ শিথিলের খবরে পরিবহন সেক্টরে স্বস্থি এসেছে। দুরপাল্লার গাড়ি আসা যাওয়া করছে। জরুরি কাজে অনেকে ছুটছেন গন্তব্যে।অন্যান্য দিনের মত  অবরোধের সময় জেলার অন্যান্য  সড়কে আজ কোন ব্যারিকেড নাই। পিকেটারদেরও  প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

অপর দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা চাকমার কাছে জুম্ম ছাত্র জনতার ৬ সদস্যেও একটি দল দেখা করে  উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৮ দফা দাবী উপস্থাপন করেছে । এসময় পার্বত্য উপদেষ্ঠা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্টেট এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান আপাদতঃ পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে ।

এদিকে  জেলার গুইমারায় সহিংসতা চলাকালে গুলিতে ৩ জন পাহাড়ি নিহত এবং সেনাবাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন পাহাড়ি-বাঙ্গালী আহতের পর এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের মরদেহগুলো সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে থেকে তাদেও আতœীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে । তাদের পরিচয়ও  নিশ্চিত হওয়া গেছে ।  

খাগড়াছড়ি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা জানান, গত দু‘দিনে নানাভাবে আহত ৩০ জনের মতো জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কোন ঘটনায় এবং কোথায় তারা আহত হয়েছেন তা জানেন না।

এদিকে প্রশাসনের আহুত ১৪৪ ধারা এখনো বহাল রয়েছে। খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারায় এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।

রাঙ্গামাটির লংগদু, বাঘাইছড়ি এবং খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলা সড়কে অবরোধ থাকায় বিভিন্ন বাজারের জন্য নিয়ে আসা কাঁচামাল নিয়ে কিছু ট্রাক ও পিকআপ আটকা পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ পাহাড়ি-বাঙ্গালী, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকরা। আগের মতোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। সেনাবাহিনীর টহলের পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ মাঠে রয়েছে।

পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, উদ্ভুত অবস্থা ক্রমেই উন্নতির দিকে। আজ কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়া শেষে ফেরার পথে অষ্টম শ্রেণির এক মারমা কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরের দিন সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীল নাে যুবকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন