নওগাঁয় মোসাদ্দেকের নাম সিল ব্যবহার করে, বিয়ে ও তালাকের কাজ করছে অসৎ ব্যক্তিরা!


দায়ভার নেবে না মোসাদ্দেক 

এ.বি.এম.হাবিব : নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার মৈনম (ফকিরপাড়া) গ্রামের দেওয়ান মোসাদ্দেক হোসেন নামের সিল মোহর ও ভুয়া সাক্ষর ব্যাবহার করে  বিয়ে ও তালাকের ব্যাবসা করে আসছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তিরা, এই ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি,পেরেশানি ও ফাঁসানোর চেষ্টাও করে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দেওয়ান মোসাদ্দেক হোসেন। 

জানা গেছে, দেওয়ান মোসাদ্দেক কাজী ১৯৯০ সাল থেকে বিবাহ ও তালাকের কার্যক্রম কাজী হিসেবে করতেন। পরবর্তীতে ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার পর, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একজন করে সরকারি ভাবে কাজী নিয়োগ হওয়ার পর, তিনি এসকল কার্যক্রম বন্ধ করে নিজের সাংসারিক কৃষি কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। এরপর জেলার বিভিন্ন অসাধু ব্যক্তিরা দেওয়ান মোসাদ্দেক হোসেনের নাম ও সিল মোহর ব্যবহার করে,বেআইনি ভাবে বিবাহ ও তালাকের কার্যক্রম করতে থাকে। এ বিষয় গুলো নিয়ে ভুক্তভোগী মোসাদ্দেক হয়রানি পেরেশানিও হতে থাকেন। এরপরও বিভিন্ন জনের অভিযোগে গত ০৮/০৪/২০১৮ইং তারিখে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্মারক নং- ০৫.৪৩.৬৪৪৭.০০০.০৮.০১.১৮-৫৬৫ তে লিখিতভাবে তার কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেন। মোসাদ্দেক হোসেন জানান, দেশের সকল ইউনিয়নে কাজী নিয়োগ হওয়ার পর থেকেই, এসব কার্যক্রম থেকে বিরত আছেন বা এ সকল কাজ করা অবৈধ, এসব কাজ করার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু জেলার বিভিন্ন এলাকার নামধারী কিছু অসাধু কাজীরা তার নামে সিল,মোহর বানিয়ে ও ভুয়া স্বাক্ষর করে এসব বেআইনি কর্মকান্ড করে আসছে। যখন স্বামী স্ত্রীর মাঝে বড় ধরনের গন্ডগোল বা ঝামেলা হয়, তারা যে ব্যক্তির কাছে বিয়ে পড়িয়েছেন, তার কাছে না গিয়ে, আমার কাছে এসে ঝগড়াঝাটি শুরু করে দেয় এবং তাকে হয়রানি পেরেশানি করা শুরু করে।  নওগাঁ আদালতে  ২০১৮/৩৬ নং স্মারকে ১৫/০৫/২০১৮ ইং তারিখে কাজীর বিয়ে সংক্রান্ত সকল বিষয়ে কাজ করার কোন বৈধতা নেই বলেও জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি মানুষদের বহু ভাবে বলি বা জানিয়ে দিয়ে থাকি, আমি কি বিয়ে পড়িয়েছি? তারা বলে,না। তাহলে আপনারা যার কাছে বিয়ে পড়িয়েছেন, তাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন, আমি তার বিরুদ্ধে আইগত ব্যাবস্থা নিতে পারবো কিন্তু তারা তাকে নিয়ে আসতে পারে না। শুধু আমার কাছে এসে ঝামেলা করে। ভুক্তভোগী মোসাদ্দেক হোসেন জানান, তিনি এসব বিয়ে, তালাকের কোন প্রকার কাজকর্ম করেন না। যদি কেহ তার নাম ও সিল মোহর ব্যবহার করে, এসব বিবাহ ও তালাকের কাজ করে থাকে, সেটি জানার সাথে সাথে, ঐ কাজীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, মানুষ বর্তমানে অনেক সচেতন হয়েছেন,কিন্তু কেন এসব বিষয়ে সচেতন এখনো হন নাই, তাই মানুষের অসচেতনতার দায়ভার কখনোই তিনি নেবেন না বলে জানান। 

কিন্তু  কাজী মোসাদ্দেক এর নাম ও সিল ব্যবহার করে আজও অবৈধ ভাবে বিয়ে ও তালাকের কার্যক্রম চলছে। আর সেই তালার মামলা হলেই সকল জটিলতা এখনো পোহাতে হচ্ছে দেওয়ান মোসাদ্দেক হোসেনকে।

এদিকে গোপন সুত্রে জানা যায়, দেওয়ান মোসাদ্দেক হোসেন এর  সিল,মোহর ও ভুয়া স্বাক্ষর করে  নওগাঁ কোর্ট চত্বরে ও কোর্ট এলাকার আশে পাশে কিছু অসাধু চক্র ধুমধাম ভাবে ব্যবসা করে আসছে। এসব তাদের নাম ঠিকানা সঠিক ভাবে জেনে তাদের বিরুদ্ধে  আইনগত ব্যাবস্থা নেবেন বলে ভুক্তভোগী দেওয়ান মোসাদ্দেক হোসেন জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন