জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ছেলেকে মারপিট, উল্টো ছেলেকেই ফাঁসানোর চক্রান্ত


এ.বি.এম. হাবিব : পিতার মৃত্যুর পর জমিজমা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই বিরোধ যখন আপন মায়ের হাত ধরে ছেলের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলার রূপ নেয়, তখন বিষয়টি আর পারিবারিক থাকে না—তা পরিণত হয় মানবিক ট্র্যাজেডিতে।

নওগাঁয় এমনই এক ঘটনায় বারবার হাজতবাসের শিকার হচ্ছেন সৌরভ কবিরাজ নামের এক যুবক। অভিযোগ উঠেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে মারধরের পর, উল্টো তাকেই ফাঁসানোর চক্রান্ত করছেন তারই মা বিলকিস আক্তার ও এক বোন নুরি-ই-আফসানা।

জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ জুলাই নওগাঁর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মো. আমিনুল ইসলাম কবিরাজ মৃত্যুবরণ করলে তিনি রেখে যান এক ছেলে ও দুই মেয়ে। আইন অনুযায়ী তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অংশ বণ্টন করে দেন ছেলে সৌরভ কবিরাজ। মায়ের দুই আনা অংশ ও দুই বোনের অংশ বুঝিয়ে দিলেও শুরু হয় নতুন দ্বন্দ্ব। দীর্ঘদিন ধরেই মা ও এক বোন নুরি-ই-আফসানা এ নিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি করে আসছেন বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী সৌরভ কবিরাজ।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, মা–ছেলের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে মূলত, বোন নুরি-ই-আফসানার স্বামী ডা. আবুজার গাফ্ফারের কুপরামর্শে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে প্রভাব খাটিয়ে তিনি মিথ্যা মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) প্রদান করতেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের হলে, বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়, যা এখনো চলমান। একই সঙ্গে জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে জমি খারিজের চেষ্টা সংক্রান্ত একটি মামলাও সিআইডির অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটেই গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নওগাঁর ভাঙা মসজিদ কুমুরিয়া মৌজায় ঘটে যায় নতুন ঘটনা। বাবার সম্পত্তিতে মায়ের ও দুই বোনের অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার পর নিজের অংশে তারকাঁটার বেড়া দেন সৌরভ কবিরাজ। হঠাৎ করে সৌরভ কবিরাজের মা ও বোন সেখানে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন মা বিলকিস আক্তার। সে বাঁশের খুটি ঝাঁকাতে লাগলে, একপর্যায়ে নিজে নিজে বাঁশের খুঁটির আঘাতে ভ্রুতে সামান্য কেটে গেলে, সেটিকে ‘মাকে মারধর’ বলে চিৎকার শুরু করে বোন নুরি-ই-আফসানা। 

ঘটনার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরায় পুরো দৃশ্য ধারণ হয়। এমনকি সৌরভের মা নিজেই তখন বলেন, তিনি মারধরের শিকার হননি, চোশমাও লাগে নাই। বাঁশের খুঁটি লেগে কেটেছে। এরপরও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করে নুরি। এরপর নওগাঁ সদর মডেল থানাতে ফোন করে পুলিশ নিয়ে আসে। পুলিশ উপস্থিতি সকলের কাছ থেকে বিষয়টি শোনে এবং সাংবাদিকদের কাছ থেকে ভিডিও ফুটেজ দেখে বুঝতে পারে,বিলকিস আক্তার নিজে নিজে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে এবং থানা পুলিশদের মিথ্যা বলে ডেকে আনা হয়েছে। থানা পুলিশ মা ও ছেলে দু,জনকেই থানায় ওসি সাহেবের দেখা করার কথা বলেন, এবং আইনশৃঙ্খলার যেন কোন ভাবেই অবণতি না হয়, বলে চলে যায়। পুলিশ যাওয়ার পরই বাহিরে থেকে লোকজন ডেকে এনে তারকাঁটার বেড়া ভেঙে ফেলে দেয় এবং সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। সৌরভ কবিরাজ মৌখিক ভাবে বাঁধা দিতে গেলে,ভাড়াটিয়া লোকজনের সহিংস আচরণ করে তাই সৌরভ কবিরাজ সহ কাজের লোকজন নিরুপাই হয়ে বেড়া ভাঙ্গা দেখতে থাকে।

এরপর আবারও ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মারধরের মামলা করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সৌরভ কবিরাজ।

এ বিষয়ে বিলকিস আক্তার, সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের অংশ আমরা আমাদের খুশিমতো নেব। ছেলে ঠিকমতো বুঝিয়ে দিচ্ছে না।”

অন্যদিকে সৌরভ কবিরাজ বলেন, “আমার মা সব সময় আমাকে মারধর করেন, আর উল্টো আমার বিরুদ্ধেই মামলা দেন। আমি সংসার করি, সন্তান আছে। বাবার সম্পত্তি থেকে আমাকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। ব্যবসা করতে গেলেও বাধা দেওয়া হয়। জামাইয়ের কথামত চলেই আমাকে বারবার হাজতে পাঠানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, দুই পক্ষের আইনজীবী ও সার্ভেয়ার দিয়ে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি ফারাজ করে দিলেও আপষ-নামায় স্বাক্ষর করা বা জমি বুঝে নেওয়া হচ্ছে না। বরং ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও মিথ্যা ব্যান্ডেজ দেখিয়ে নতুন মামলার চেষ্টা চলছে।

সবশেষে তিনি বলেন, “আমি আইনের বাইরে এক ইঞ্চি জমিও চাই না। তবুও আমার নিজের মা, বারবার আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।” এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন