সিপন আহমেদ, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হাসপাতালে গিয়েছিলেন এক দম্পতি। কিন্তু সেই হাসপাতালেই দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন গৃহবধূ। মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর শনাক্তকরণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী (১৬) তার স্বামীকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে নারায়ণগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জের বেতিলা এলাকায় নানাবাড়ি যাচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানটির ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। গভীর রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় তারা মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে যান।
এ সময় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য আবু সাঈদ ও শাহাদাৎ হোসেন তাদেরকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে একজন আনসার সদস্য ভুক্তভোগীর স্বামীকে বাইরে নিয়ে যান। অন্যজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে দুই আনসার সদস্য স্থান বদল করে আবারও ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর আনসার সদস্যরা চলে গেলে ভুক্তভোগী বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। পরে টহল পুলিশের সহায়তায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সব আনসার সদস্যকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালে ভুক্তভোগী দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। পরে পুলিশ তাদের আটক করে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ডিউটি রোস্টার যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আটক দুই আনসার সদস্য ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।”
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত সহকারী প্লাটুন কমান্ডার সাহেব আলী বলেন, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন আবু সাঈদ ও শাহাদাৎ হোসেন। ভোরের দিকে পুলিশ এসে সবাইকে দাঁড় করালে ভুক্তভোগী ওই দুইজনকে শনাক্ত করেন।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, “জেলা আনসার কমান্ড্যান্টের মাধ্যমে এখানে আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমরা মর্মাহত। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভুক্তভোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
