কুমিল্লা থেকে ফিরে মোঃ লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৮টিতেই জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বাকি তিনটি আসনের একটিতে জামায়াতে ইসলাম, একটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র বিজয়ী প্রার্থী অবশ্য বিএনপিরই সদ্য বহিষ্কৃত নেতা, যিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন।
নির্বাচনে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির প্রার্থী আবুল হাসনাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহ।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিন। কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. আবুল কালাম। কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূইয়া। এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।
আসনভিত্তিক ফলাফল ও প্রাপ্ত ভোট:
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা): বিজয়ী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন (বিএনপি)-১,৪০,৩০৫ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনিরুজ্জামান বাহালুল (জামায়াত)-৯০,৪৯৯ ভোট।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস): বিজয়ী মো: সেলিম ভূইয়া (বিএনপি)-৭৬,২৬৮ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: আবদুল মতিন (স্বতন্ত্র) ৬২,৩৮৫ ভোট, নাজিম উদ্দিন (জামায়াত) ৫০,১৩৬ ভোট।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর): বিজয়ী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ (বিএনপি)- ১,৫৮,০৯৩ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: ইউসুফ সোহেল (জামায়াত) ১,০৪,৫৮০ ভোট।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): বিজয়ী হাসনাত আবদুল্লাহ (এনসিপি) ১,৬০,৫২৭ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ: জসিম উদ্দিন (গণ অধিকার পরিষদ) ৪৯,৬৪৪ ভোট।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া): বিজয়ী জসিম উদ্দিন (বিএনপি) ১,৩৪,৪৮৫ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. মোবারক হোসাইন (জামায়াত) ১,২৪,৫৪৭ ভোট।
কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ): বিজয়ী মনিরুল হক চৌধুরী (বিএনপি) ১,৯৯,৩৭২ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (জামায়াত) ১,১৪,২২৬ ভোট।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা): বিজয়ী আতিকুল আলম শাওন (স্বতন্ত্র)-৯০,৮১৯ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. রেদোয়ান আহমেদ (বিএনপি)- ৪৭,৯২৫ ভোট।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া): বিজয়ী জাকারিয়া তাহের সুমন (বিএনপি) -১,৬৭,৪৮৬ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল (জামায়াত) ৪১,২০৯ ভোট।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ): বিজয়ী আবুল কালাম (বিএনপি) -১,৬৮,১০৮ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক সরোয়ার আলম সিদ্দিকী (জামায়াত)- ১,১৩,৪৫৪ ভোট।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই): বিজয়ী মোবাশ্বের আলম ভূইয়া (বিএনপি)- ১,১০,৬৯০ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী- মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত (জামায়াত) -৭৫,২৮৪ ভোট।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম): বিজয়ী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো: তাহের (জামায়াত)-১,৩৩,৩০৮ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: কামরুল হুদা (বিএনপি)-৭৬,৬৩৮ ভোট।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। এরপর শুরু হয় ভোটগণনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন গণভোটেও রায় প্রদান করেন দেশের মানুষ। ফলাফল প্রকাশের জন্য কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসানের সম্মেলন কক্ষে খোলা হয় ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্র। কুমিল্লার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একে একে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করতে থাকেন।
