নাজমুল হুদা, নীলফামারী প্রতিনিধি : নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে অধিকাংশ শিল্পকারখানাই স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা যাচ্ছে না। এতে করে উৎপাদন নেমে এসেছে আশঙ্কাজনকভাবে, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।
শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক কারখানায় দীর্ঘ সময় ধরে মেশিন প্রস্তুত করার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় উৎপাদন শুরুই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কারখানাগুলো কার্যত অলস পড়ে থাকছে, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, কমছে আয়।
সৈয়দপুর শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি মেশিন চালু করতে অনেক সময় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বিদ্যুৎ স্থায়ী না থাকায় উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। এতে দৈনিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের কিস্তি, শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে উঠছে। অন্তত নির্দিষ্ট সময় ধরে টানা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কিছুটা হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।
উদ্যোক্তারা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে যন্ত্রপাতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে মেশিনের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে কিছু এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরণের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্প এলাকায় যাতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিল্পনগরীর উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
