মু.ওয়াহিদুর রহমান মুরাদ, লক্ষ্মীপুর : মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল এবং উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী এলাকা। ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে স্থলভূমি বিলীন হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই বদলে যাচ্ছে রায়পুরের মানচিত্র। সাজু মোল্লার ঘাট সহ বিভিন্ন এলাকা ভাঙন প্রতিরোধে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানালেও প্রতিশ্রুতি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছে তা।
বৈশাখ মাসে দুর্যোগ শুরু হওয়ার সাথে সাথে মেঘনা নদীর পানি বাড়ায় (জোয়ারে) ভাঙন শুরু হয়েছে রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের বিশাল বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাড়ের বিভিন্ন এলাকায়। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের কিছু কিছু এলাকা এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে একটি সাইক্লোন শেল্টার, কয়েকটি কবরস্থান, মসজিদ, ঈদগাহ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম দিকে চরইনদ্রুরিয়া, চরঘাসিয়া, জালিয়ারচর গ্রামের ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি। এসব গ্রামের কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
৮ নং দক্ষিণ চর বংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী বাদশা জানান গত ১০ বছরে সহস্রাধিক ঘরবাড়িসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদসহ নানারকম সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাপনা। ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুহারা মানুষজন হয়ে পড়েছেন দিশাহারা। এদিকে সরকারের তরফ থেকে ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে চাঁদা তুলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে সেই চেষ্টাও ফলপ্রসূ হয়নি। এর মধ্যে ইউনিয়ন ৩টির প্রায় ৩০টি স্থানে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
রায়পুর উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজ জানান, রায়পুর উপজেলা মধ্যে চরইনদ্রুরিয়া ও জালিয়ারচরে মানুষ বেশি অবহেলিত। উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের পশ্চিমপাড় বিশাল এলাকাজুড়ে স্থায়ী বাঁধ নেই। এ কারণে প্রতিনিয়ত মেঘনার ভাঙনের শিকার হতে হয়। নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আমাদের ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও ফসলি জমি।
পাউবো লক্ষ্মীপুর এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোকুল চন্দ্র পাল জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে নৌযান চলাচলে খুব শীঘ্রই পুনঃখনন কার্যক্রম হাজিমারা অংশে ড্রেজিং শুরু হচ্ছে। শহরআলী মোড় থেকে মতিরহাট পর্যন্ত ব্লকবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
পাউবো লক্ষ্মীপুর এর সহকারী প্রকৌশলী রবিন আলী জানান, রায়পুর উপজেলার নদী ভাঙন কবলিত এলাকা সমূহের জন্য প্রকল্প রেডি করে পাঠানো হয়েছে।
তবে আশার আলো দেখাচ্ছেন ৪ বারের সংসদ সদস্য লক্ষ্মীপুর -২ আসনের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া। ইতোমধ্যে তিনি ৭ কিলো ব্লক বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বাঁধের সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন বলে জানান। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী একনেকে প্রকল্পটি পাশ হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি আরো জানান, মেঘনা ইলিশ আহরণ অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে নদীতে চর পড়ে যাওয়ার কারণে।কিভাবে ইলিশের আবাসস্থল পরিপূর্ণভাবে ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। রায়পুর উপজেলা শহর আলী মোড় থেকে চর রমণী মোহন ইউনিয়নের বুড়ির ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী ব্লক নির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ব্লকবাঁধ নির্মাণ হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন বাড়বে তেমনি ফসলি জমি রক্ষা পাবে,জেলেদের কর্মসংস্থান হবে আরো বেশি।
