সাপাহারে পরিত্যক্ত অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন: সংস্কারের দাবী স্থানীয়দের


আব্দুল আলিম, সাপাহার (নওগাঁ)  প্রতিনিধি : নওগাঁ জেলার অন্তর্গত সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলা। আর এই উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জিরোপয়েন্টে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন।  তিনতলা বিশিষ্ট  মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে । ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে একদিকে ভবনটি হয়ে উঠছে মাদকসেবী সহ নানা অপকর্মের আখড়া অপরদিকে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধাগন। আর এমনটাই অভিযোগ করছেন এলাকার সচেতন মানুষ । 

স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তিনারা জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মিত হয়। এই ভবনটি নির্মিত হবার পর স্থানীয় সাংসদ ও তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের তত্বাবধানে পরিচালিত হতো ভবনটি। আর সাধন চন্দ্র মজুমদারের সাথে তৎকালীন উপজেলা মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক ইস্ফাত জেরিন মিনার সাথে বেশ দহরমমহরম লক্ষ্য করা যায়। তার সাথে মিনার সঙ্গী জুয়েল রহমান শুরু করে স্থানীয় খাদ্যমন্ত্রীর চামচামি।  যার ফলে বেশ কিছুদিনের মধ্যে মিনা-জুয়েল পুরো কর্তা বনে যান মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের। সেখানে গড়ে তোলেন এম ফুড কর্ণার নামে চাইনিজ ও বাংলা রেস্টুরেন্ট সহ কসমেটিক ও কনফেকশনারি ব্যবসা। শুধু তাই নয় চড়া সিকিউরিটি নিয়ে যাকে তাকে মার্কেট ভাড়া দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে মিনার বিরুদ্ধে। ফ্যাসিস্ট সরকারের খাদ্যমন্ত্রীর সাথে তাদের সু সম্পর্ক হবার ফলে ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না বলে জানান একটি মহল। যার ফলস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নিজস্ব স্থাপনা মনে করে মার্কেটে মিনা-জুয়েল চক্র গড়ে তোলেন নিজস্ব নানান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। 

কতিথ আছে, মিনার এম ফুড কর্ণারে যুবক যুবতীদের জন্য আলাদা কেবিন করা ছিলো। সেখানে যুবক যুবতীদের ঘন্টা চুক্তিতে নানা অপকর্মের জন্য মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো তারা। এমতাবস্থায় তাদের সাথে যোগ দেন বেসরকারী একটি এনজিওর মালিক আব্দুল হালিম নামের একজন স্বঘোষিত আ'লীগ নেতা। তিনিও গড়ে তোলেন ২/৩ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করতেন মিনা-জুয়েল চক্র। 

পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দেশ থেকে পলায়ন করে ফ্যসিস্ট সরকার শেখ হাসিনা। এঘটনার পরই পালিয়ে যায় মিনা-জুয়েল চক্র। ৫ আগস্টে ছাত্র জনতার সহ স্থানীয়দের রোষানলে এম ফুড কর্ণার সহ মিনা ও হালিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় গুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের কার্যক্রম। 

দীর্ঘদিন যাবৎ এই তিনতলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে । যার ফলে ভবনের ভিতরে মাদক সেবন সহ নানা অপকর্ম সংঘটিত হয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক লোকজন। যাতে করে নষ্ট হচ্ছে ভবনটির সামাজিক পরিবেশ। এছাড়াও পরিত্যক্ত হয়ে থাকায় নষ্ট হবার দ্বারপ্রান্তে এই ভবনটি। এটি সরকারী সম্পদ। এভাবে পড়ে থাকলে হয়তো কোন এক সময় পুরোটাই বিনষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা  কমান্ডার নিয়াজ উদ্দীন মাস্টার বলেন " এর আগে তো মিনা আর জুয়েল তাদের নিজের মতো করে ভবনটি চালিয়েছে। বর্তমানে এটি সংস্কার করা হোক এবং নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের কাজে লাগানো হোক এমনটাই আশা করি। "

বিষয়টি নিয়ে সাপাহার উপজেলা ক্রীড়া একাডেমির চেয়ারম্যান আবু সাইদ চৌধুরী (অনিক) বলেন " এটি সরকারী সম্পদ। শীঘ্রই এটি সংস্কার করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাজে লাগানো হোক এমনটাই আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।"

সাপাহার সরকারী কলেজ শাখার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিপন হাসান বলেন " বিগত দিনে মিনা-জুয়েল চক্র যেভাবে নিজের বাবার সম্পদ মনে করে ভবনটি চালিয়েছে তা অত্যান্ত দুঃখজনক। বর্তমানে এটি সংস্কার পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং মুক্তযোদ্ধারা তাদের অধিকার ফিরে পাক এমনটাই দাবী করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।"

নিউ মার্কেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. জামাল উদ্দীন সাজু বলেন " এভাবে ভবনটি পড়ে থাকলে এটি মাদকসেবী সহ নানা অপকর্মের হটস্পট হতে পারে। এই ভবনটি সংস্কার করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। "

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোমানা রিয়াজ বলেন " আমরা বিষয়টি দেখছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা এটি সংস্কার করবো"।

শীঘ্রই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি সংস্কার করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাজে লাগানো হোক এবং সরকারী সম্পদ রক্ষা করা হোক এমনটাই দাবী এলাকার সচেতন মহলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন