নিজস্ব প্রতিবেদক : এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন অবৈধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্বেরত এক নারী শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে মিন্টুর বিরুদ্ধে। গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) গুরুদাসপুর পৌর সদরের বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ওই ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পরীক্ষা চলাকলীন এমপি আবদুল আজিজের ছোট ভাই শের আলমকে কেন্দ্রে ডেকে ভুক্তভোগি শিক্ষক ডলি পারভীনের সঙ্গে আপোষ করে দেন কেন্দ্র সচিব সিরাজুল ইসলাম। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের কক্ষে এসব ঘটনা ঘটায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা অংশ নিয়েছে এমপি আবদুল আজিজের নাতনি। রবিবার ছিল ইংরেজি প্রথম পত্র বিষয়ের পরীক্ষা।
ওই কক্ষের দায়িত্বেরত ভুক্তভোগি শিক্ষক ডলি পারভীন বলেন, ‘রবিবার ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে ২০১ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন মিন্টু ও তার স্ত্রী। পরীক্ষা শেষে অন্য পরীক্ষার্থীদের খাতা আগে সংগ্রহের পর সবশেষে নিজের মেয়ের খাতা নিতে মিন্টু নির্দেশ করেন। আমি অপারগতা প্রকাশ করলে অশালিন ভাষায় গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে মারার জন্য তেরে আসেন। মিন্টুর গর্জনে পুরো কেন্দ্রে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশের কক্ষের শিক্ষকেরা এসে মিন্টুকে থামানোর চেষ্টা করেন। শিক্ষক হিসেবে আমার সঙ্গে ঘটা ঘটনাটি চরম অপমানের। তবে ঘটনার পর পরই মিন্টুর চাচা শের আলম পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে ভুল স্বীকার করেন। মোবাইল ফোনে ভুল স্বীকার করেছেন মিন্টু নিজেও। একারণে আমি অভিযোগ দেইনি।’
নাম প্রকাশ না করার সত্তে ওই কক্ষের অন্তত ৫জন পরীক্ষার্থী জানায়, ম্যাম খাতা দিচ্ছিলেন। অনেকেই খাতার বৃত্ত ভরাট করছিল। এ সময় দুই ব্যক্তি তাদের কক্ষে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে মিন্টুর সঙ্গে ডলি ম্যামের তর্ক হয়। তখন মিন্টু অশ্লিল ভাষায় ম্যামকে গালি দেন। মারার জন্য তেরে আসেন। এই পরিস্থিতিতে ওই কক্ষের পরীক্ষার্থীরা রিতিমতো আতংকিত হয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকে ২০১ নম্বর কক্ষে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। অন্যান্য পরীক্ষাথীদের পরীক্ষা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে।
ঘটনার সতত্য নিশ্চিত করে পরীক্ষার দায়িত্বেরত ট্যাগ কর্মকর্তা সহকারি প্রগ্রামার আব্দুল্লাহ বলেন, খাতা দেওয়া শুরু হলে কেন্দ্রে বহিরাগত লোকজন প্রবেশ করা নিষেধ। অথচ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে বহিরাগত লোকজন কীভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে তা তার বোধগম্য নয়। ঘটনার সময় তিনি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র সটিং করছিলেন। ভুক্তভোগি শিক্ষকের কাছ থেকে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। প্রথমে অভিযোগ দিতে চাইলেও পরে ওই শিক্ষক কোনো অভিযোগ দেননি। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক।
বেগম রোকেয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তিনি মিমাংসা করে দিয়েছেন। এর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছেন না। অভিযুক্ত মিন্টু মোবাইল ফোন না ধরায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেগম রোকেয়া স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, মৌখিকভাবে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। এই ঘটনায় সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আইন মেনে চিঠির জবাব দেওয়া হবে।


