সৈয়দপুরে রেলের জলাবদ্ধতায় বিপাকে কৃষক, ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ একর ফসলি জমি


নাজমুল হুদা, নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গেলাহাট এলাকায় রেলের জলাশয়ের স্থায়ী জলাবদ্ধতায় প্রায় ১৬ একর আবাদি জমির ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে প্রতিবছর অর্ধকোটি টাকারও বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেলাহাট সংলগ্ন রেলের একটি বড় জলাশয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকে। জলাশয়টি নিয়মিত খনন বা সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি আশপাশের ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই পানি বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় দীর্ঘসময় জমিগুলো জলাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে।

এর ফলে বোরো ও আমন ধান, ভুট্টা, আলু এবং বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। কোথাও কোনোভাবে আবাদ করা গেলেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসানের বোঝা বাড়ছে কৃষকদের।


স্থানীয় কৃষক আতাউর রহমান জানান, আগে বছরে দুই থেকে তিনবার ফসল আবাদ করা গেলেও এখন জমিতে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে চাষ করা যাচ্ছে না। জমি প্রস্তুত করতে বাড়তি খরচ হচ্ছে, আবার ফলনও কমে গেছে।

আরেক কৃষক নুর আলম বলেন, জলাবদ্ধ জমিতে শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে অতিরিক্ত মজুরি গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় ধান কাটার যন্ত্র জমিতে প্রবেশ করতে না পারায় ফসল তুলতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

কৃষক বাবু মিয়ার দাবি, চলতি মৌসুমেই প্রায় ১৬ একর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধারদেনা করে আবাদ করলেও ফসল ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে শুধু কৃষিজমিই নয়, বর্ষাকালে আশপাশের রাস্তাঘাটও পানিতে ডুবে যায়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত রেলের জলাশয় সংস্কার, খাল ও ড্রেন খননের মাধ্যমে স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

কৃষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে জমির উর্বরতা আরও কমে যাবে এবং ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাদের মতে, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং কৃষকরা আবারও স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদে ফিরতে পারবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন