ঝিনাইগাতী উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটির বাড়ি


গোলাম রব্বানী-টিটু,(শেরপুর)প্রতিনিধি: গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়া-ঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর| যা এক সময় ছিল গ্রামের মানুষের কাছে মাটির ঘর গরীবের এসি বাড়ি নামে পরিচিত| কিন্তু কালের আবর্তে আজ হারিয়ে যাচ্ছে মাটির বাড়ি| আগে প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়তো মাটির ঘর| ঝড় - বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচুর গরম ও শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর এখন আর তেমন একটা নজরে পড়ে না| আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর সময়ের পরিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি বাড়ি বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছ| অতি প্রাচীনকাল থেকেই মাটির বাড়ির প্রচলন ও গ্রামের মানুষের কাছে এ বাড়ি ঐতিহ্যের প্রতিক ছিল| গ্রামের বিত্তবানরা এক সময় অনেক অর্থ ব্যয় করে মাটির দ্বিতল মজবুতবাড়ি তৈরি করতেন যা এখনো কিছু কিছু গ্রামে চোখে পড়ে| এঁটেল বা আঠালো মাটি কাঁদায় পরিণত হয়ে  ২-৩ ফুট চওড়া করে দেয়াল বা ব্যাট তৈরি করা হয়| ১০-১৫ ফুট উঁচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার উপর খড় বা টিনের ছাউনি দেয়া হয়| মাটির বাড়ি অনেক সময় দোতলা পর্যন্ত করা হতো| সব ঘর বড় মাপের হয় না| গৃহিণীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আলপনা এঁকে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন| প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে মাটির ঘর নষ্ট হয় বলে বর্তমান সময়ে দীর্ঘস্থায়ীত্বর কারণে গ্রামের মানুষরা ইট- সিমেন্টের বাড়ি নির্মাণের দিকে  আগ্রহী হচ্ছে বেশী| উপজেলার মুজাহিদ সহ আরো অনেকে জানান, মাটির তৈরি বাড়ি তারা পেয়েছন অনেক আগে থেকেই| তাদের পৃর্ব পুরুষেরাও এই মাটির তৈরি বাড়িতেই জীবন কাটিয়েছেন|  এখন তারা এই মাটির  বাড়িগুলো বাঙালীদের বাড়িতে দেখা কম মিলে | অপর দিকে পাহাড়ের আদিবাসীরা এই মাটির ঘরের ঐতিহ্য ধররে রাখার জন্যে আজও তারা মারটির ঘরে বসবাস করে আসছে |তবে মাটির তৈরি বাড়ি বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের পরিবর্তনে আধুনিকতার সময় অধিকাংশ মানুষ মাটির বাড়ি ভেংঙে অধিক নিরাপত্তা ও ¯^ল্প জায়গায় দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক লোকের নিবাস কল্পে গ্রামের মানুষরা ইটের বাড়ি-ঘর তৈরি করছেন বলে জানা গেছে |

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন