টঙ্গীর জাভান হোটেলে চাঁদাবাজি করতে এসে গণধোলাই, ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক


গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের টঙ্গীর জাভান হোটেলে চাঁদাবাজি করতে এসে স্থানীয় জনতার গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে উত্তরার কথিত কিশোর গ্যাং সদস্যরা। এসময় ককটেল সদৃশ বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকাবাসীর হাতে আটক হন কিশোর গ্যাং সদস্য ভাদাইম্যা সবুজ। আহত অবস্থায় তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় উত্তরার কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত ছোট সানি গণধোলাই খেয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন জাভান হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে ছোট সানির নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং সদস্য সোহেল ওরফে টোকাই সোহেল, রোমানসহ ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল এবং একটি প্রাইভেট কার নিয়ে একদল যুবক জাভান হোটেলে আসে। এসময় তারা হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

এক পর্যায়ে তারা ককটেল সদৃশ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে টোকাই সোহেল দ্রুত তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এসময় ছোট সানি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে ফেলে চলে যায় সে। পরে স্থানীয় জনতা ছোট সানিসহ কয়েকজনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। তবে একপর্যায়ে ছোট সানি আহত অবস্থায় যে গাড়িটি করে তারা চাঁদাবাজি করতে এসেছিল, সেই প্রাইভেট কারেই পালিয়ে যায়।অন্যদিকে ভাদাইম্যা সবুজসহ আরও কয়েকজন স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হন। পরে আহত অবস্থায় সবুজকে উদ্ধার করে প্রথমে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।স্থানীয়দের দাবি, ছোট সানি উত্তরার একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয় এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

জাভান হোটেলের মালিক সায়মন খান বলেন, “ভোর রাতে ৮-১০টি মোটরসাইকেল এবং একটি প্রাইভেট কার নিয়ে একদল যুবক হোটেলে আসে। তারা জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে এবং চাঁদা দাবি করে। বাধা দিলে তারা ককটেল সদৃশ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমরা আইনের সহযোগিতা চাই এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন