ওয়ালটন প্লাজা থেকে ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার নাটোরের গৃহবধূ আফরোজা

চিত্রনায়ক আমিন খান, চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম এবং ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হানসহ ওয়ালটনের ‍ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ আফরোজার হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দিচ্ছেন।


আব্দুল মজিদ,  নাটোর : ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪ এর আওতায় ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেয়ে আলোচনায় এসেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের গৃহবধূ মোছাম্মদ আফরোজা বেগম। একটি ফ্রিজ কিনে এতো বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে তার পরিবার। এ ঘটনাকে ঘিরে নাটোরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। ওয়ালটন নিয়ে চলছে আলোচনা আর প্রশংসার ঝড়।

শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) এ উপলক্ষে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ওয়ালটন প্লাজার সামনে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে আফরোজা বেগমের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আমিন খান, চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম এবং ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ফ্রিজের চিফ বিজনেস অফিসার তাহসিনুল হক, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমদে এবং হেড অব অ্যাডমিন কুদরত মোল্লাসহ ওয়ালটনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এসময় অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই সৌভাগ্যবান ক্রেতাকে এক নজর দেখতে এবং ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সম্পর্কে জানতে ভিড় করেন।

অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, “ওয়ালটন এখন শুধু একটি ব্র্যান্ড নয়, এটি বাংলাদেশের গর্ব। দেশীয় প্রযুক্তি পণ্য আজ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার কারণেই ওয়ালটন এতদূর এগিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, দেশীয় পণ্য ব্যবহার বাড়লে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। আজ আফরোজার মতো একজন সাধারণ গৃহবধূর হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দিতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।”

ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান বলেন, “ওয়ালটন শুধু দেশের চাহিদাই পূরণ করছে না, বিদেশে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করছে। দেশের মানুষ দেশীয় পণ্য ব্যবহার করলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। সবাই মিলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। একজন সাধারণ ক্রেতার হাতে ১০ লাখ টাকা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ওয়ালটন গ্রাহকদের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রমাণ দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় ওয়ালটন শুধু ব্যবসা করে না, তারা সমাজের প্রতিও দায়বদ্ধ।”

চিত্রনায়ক আমিন খান বলেন, “একটি পণ্য কিনে একজন ক্রেতা ১০ লাখ টাকা পেতে পারেন—এমন বিষয় আগে কল্পনাও করা যেত না। ওয়ালটন গ্রাহকদের জন্য অভিনব ও আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করেছে। যারা দেশকে ভালোবাসেন তারা অবশ্যই দেশীয় পণ্যের প্রতি আস্থা রাখবেন। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে, ওয়ালটনের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোও বিশ্বমানের সেবা ও সুযোগ দিতে সক্ষম।”

জানা গেছে, বাগাতিপারা উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আফরোজা বেগম স্থানীয় ওয়ালটন প্লাজা থেকে চলতি মাসের ৩ তারিখে ৫০ হাজার ৪৯০ টাকায় ৩১২ লিটারের একটি ফ্রিজ কেনেন। কেনার পর পণ্যের বারকোড দিয়ে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করলে তার মোবাইলে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার মেসেজ যায়। শোরুম থেকেও মোবাইলফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

মিলয়নিয়ার গৃহবধূ আফরোজা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের বিষয়ে আগে কিছুই জানতাম না। গ্রামের অনেকের বাসাতেই ওয়ালটনের ফ্রিজ দেখেছি। অন্যদের পরামর্শে এবং ডিজাইন ভালো লাগায় কিস্তিতে একটি ফ্রিজ কিনেছিলাম। পরে জানতে পারি আমি ১০ লাখ টাকা পেয়েছি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত। ওয়ালটন তাদের প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করেছে। সত্যি বলতে, ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পাবো—এটা স্বপ্নেও ভাবিনি।”

তিনি বলেন, ওয়ালটন ফ্রিজ কেনার পর আমাদের ভাগ্য বদলে গেছে। প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। পরে যখন নিশ্চিত হলাম, তখন পরিবারের সবাই আনন্দে কেঁদে ফেলেছে। এই অর্থ আমরা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করবো এবং পরিবারের উন্নয়নে কাজে লাগাবো।”

অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া ওয়ালটনের আরেকজন গ্রাহক রমিজ উদ্দিন বলেন, আগে শুনতাম ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়, কিন্তু আমাদের এলাকার একজন ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন—এটা দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশীয় পণ্যের প্রতি আরও আস্থা তৈরি হবে। ওয়ালটন পণ্যের ডিজাইন, মান ও সার্ভিস অনেক ভালো। এখন আবার ক্যাশব্যাক ও পুরস্কারের সুযোগ থাকায় মানুষ আরও আগ্রহী হচ্ছে। আফরোজার এই প্রাপ্তি আমাদেরও উৎসাহিত করেছে।”

অনুষ্ঠানে ওয়ালটনের কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকদের দ্রুত ও আধুনিক বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে সারাদেশে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ক্রেতার নাম, মোবাইল নম্বর ও পণ্যের তথ্য সরাসরি ওয়ালটনের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে ওয়ারেন্টি কার্ড হারিয়ে গেলেও দেশের যেকোনো ওয়ালটন সার্ভিস সেন্টার থেকে সহজেই সেবা নেওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, সিজন-২৪ এর আওতায় ওয়ালটন ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন বা বিএলডিসি ফ্যান কিনে মিলিয়নিয়ার হওয়ার অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা পাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ওয়ালটন। পাশাপাশি ক্রেতারা পাচ্ছেন লাখ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার, আর্জেন্টিনার ফ্যান জার্সিসহ নিশ্চিত উপহার। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ওই ক্যাম্পেইনে ঈদুল আজহা পর্যন্ত দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ই-প্লাজা’ থেকে পণ্য ক্রয়ে এসব সুবিধা পাবেন ক্রেতারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন